প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘ভালোকে ভালো, খারাপকে খারাপ’ বলার স্বাধীনতা চাইলেন জুলাই যোদ্ধা নাসির
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আলোচিত মুখ মো. নাসির খানকে সচিবালয়ে ডেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার দুপুরে ওই সাক্ষাতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিজের অংশগ্রহণ, আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা এবং নতুন বাংলাদেশ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন নাসির।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আলোচিত মুখগুলো নিয়ে গত রোববার (১৯ জুলাই) ‘জুলাইয়ের এই মুখগুলো এখন কোথায়’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। অভ্যুত্থানের সাত পরিচিত মুখকে নিয়ে করা ওই প্রতিবেদনে পুলিশের গুলির মুখে টিনের ঢাল হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা মো. নাসির খানের ঘটনাও তুলে ধরা হয়।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিনই নাসির খানকে সচিবালয়ে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীর মাধ্যমে নাসির খানকে সচিবালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দেখা করেন নাসির খান। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ১০ মিনিট সময় দেন।
সন্ধ্যায় প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে নাসির খান সাক্ষাতের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে ঢুকলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, নাসির, কী খবর? তোমার হাতের লোহার পাইপটা কোথায়? লাঠিটা কোথায়? তখন আমি বলি, ওটা তো আন্দোলনের সময় ফেলে আসছি।’
নাসির জানান, এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং আন্দোলনের সময় তাঁর সাহসিকতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বললেন, তোমার তো অনেক সাহস। অনেকগুলো প্রশাসনের লোকের সামনে অস্ত্রের মুখে তুমি দাঁড়িয়েছিলে এক টুকরা টিন হাতে। তখন আমি হেসে বললাম, হ্যাঁ, সেই সাহসের কারণে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি।’
এরপর তারেক রহমান তাঁর কাছে জানতে চান, জুলাই যোদ্ধা হিসেবে কোনো কার্ড করেছেন কি না। নাসির বলেন, ‘জবাবে আমি বলি, না, আমি কোনো কার্ড করিনি। আন্দোলনের ক্রেডিট নেওয়ার জন্য আমি কিছু করিনি।’
সাক্ষাতে নতুন সরকারের কাছে নাসিরের প্রত্যাশার বিষয়েও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে নাসির খান তাঁকে বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারব। আমাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। ভালোকে ভালো এবং খারাপকে খারাপ বলে সমালোচনা করতে পারব, এমন একটি বাংলাদেশ আমরা চাই।’
‘এরপর প্রধানমন্ত্রী আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী মনে হয়, আমরা ভালো কিছু করতে পারছি। উত্তরে আমি বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই আপনারা ভালো কিছু করছেন। এই অল্প কিছুদিনে আপনারা অনেক কাজ করেছেন, অনেক পরিবর্তন এসেছে। আপনাদেরকেও সময় দিতে হবে। এতে ইনশা আল্লাহ খুব সুন্দর একটি বাংলাদেশ গঠন হবে,’ বলেন নাসির।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের সহযোগিতায় দেশ গঠনের কথা বলেন বলে জানান নাসির। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বললেন, তোমরা তরুণেরা যারা আছ, সকলে মিলেই আসলে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সুন্দর করতে হবে। সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা সকলেই স্বপ্ন দেখি একটি নতুন বাংলাদেশের। দোয়া করবে সব সময়, যেন আমরা সেই প্রত্যাশা, সেই আশা নিয়ে সামনের দিনগুলো চলতে পারি। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে পারি, চাঁদাবাজমুক্ত করতে পারি। এ রকম একটি বাংলাদেশ যেন আমরা জনগণের হাতে তুলে দিতে পারি। তোমরা তরুণেরাও সঙ্গে থাকবে সব সময়।’
নাসির জানান, বিদায় নেওয়ার সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করেন, নিজের জন্যও তাঁর কাছে দোয়া চান।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগের দিন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পুলিশের সামনে টিনের তৈরি ঢাল হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্যানিটারি মিস্ত্রি মো. নাসির খান। আন্দোলনের সময় তোলা সেই ছবি দেশজুড়ে আলোচিত হয় এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকী ছবি হিসেবে পরিচিতি পায়।