অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ককে ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে চারদিক দিয়ে ভারত ঘিরে রেখেছে, এটা ভৌগোলিকভাবে দেখলে ঠিক মনে হবে। তবে মানসিক দিক দিয়ে এটা ঠিক নয়। বাংলাদেশের একটি দরজা আছে, সেটির নাম বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের উচিত বঙ্গোপসাগর এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিকে তাকানো।

আলী রীয়াজ বলেন, ভারত রাজ্যভিত্তিক রাষ্ট্র হলেও শাসনব্যবস্থা দিল্লি থেকে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গভীর, এটা যেমন সত্য, অন্যদিকে মনে রাখতে হবে, কলকাতা থেকে ভারতের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হয় না, হয় দিল্লি থেকে।

বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সরকার অভূতপূর্ব সহায়তা করেছে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, এ জন্য বাংলাদেশের মানুষ ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছরের বেশি হলো। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা বিষয়টির এখনো কোনো সমাধান হয়নি। মাত্র একটি নদীর ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে।

আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংযুক্তি (কানেকটিভিটি) খুবই জরুরি। আঞ্চলিক যোগাযোগের নামে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে ভারত তার একটি অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু উত্তর–পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার কোনো অগ্রগতি কেন হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশ ১ হাজার ৩৭০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে। রপ্তানি করে মাত্র ১০৯ কোটি ডলারের পণ্য। ভারতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা রয়েছে।
রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, সেই পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের স্বাধিকারের আন্দোলনকে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা হতো, এটা যেমন সত্য, তেমনি ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংয়ের ভূমিকা সবার মনে আছে।

ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুংয়ের এশিয়া অঞ্চলের প্রকল্পপ্রধান মার্ক সাক্সের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আধিপত্যের লড়াইয়ের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। একদিকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মতো বিষয়কে সামনে আনা হচ্ছে, অন্যদিক থেকে সামনে আছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এর মাঝখানে পড়ে গেছে বাংলাদেশ।