‘হেফাজতে’ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগ, পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন নয়

মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে মারা যাওয়া ছাত্রলীগ কর্মী (নিষিদ্ধ) মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

‘“ডিবির হেফাজতে” ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর আগে আটকের সময় কী ঘটেছিল, এমন ভিডিও ফেসবুকে’ শিরোনামে গত ২৬ জুন প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ওই ঘটনায় বিচারিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক) রিটটি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।

পরে আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, মির্জা ইশতিয়াকের পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন আদালত। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, আইনসচিব ও সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ২০ জুন বিকেলে মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্ধারদিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে থেকে ইশতিয়াককে আটক করেন জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। ডিবি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরের দিন সকালে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

আরও পড়ুন

ইশতিয়াক ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ফরিদপুর চিনিকলের মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ওই অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আহাদুজ্জামান ২১ জুন সকালে বাদী হয়ে ইশতিয়াককে আসামি করে মধুখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় তাঁর কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করা হয়।

ওই মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০ জুন দিবাগত রাত দুইটার দিকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইশতিয়াক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে ধরে দুজন সাক্ষীর সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজের কাছে গাঁজা থাকার কথা স্বীকার করেন এবং নিজ হাতে প্যান্টের ডান পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো গাঁজা বের করে দেন।

আরও পড়ুন

ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার ঘটনার পর প্রথম আলোকে বলেছিলেন, টাকার বিনিময়ে ছেলেকে ছাড়তে রাজি হয়েছিলেন পুলিশের সদস্যরা। তিনি এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যান, কিন্তু জীবিত ছেলের বদলে তিনি ছেলের লাশ পান।