বাঙালিত্বের জন্য কলকাতার সার্টিফিকেট নিতে হয় না, মুসলমানিত্বের জন্যও পিন্ডি-করাচির সার্টিফিকেট দরকার নেই: তথ্যমন্ত্রী

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ বৃহস্পতিবার, রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশেছবি: প্রথম আলো

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাঙালিত্বের সার্টিফিকেট নিতে কলকাতায় যেতে হয় না। একইভাবে মুসলমানিত্বের প্রমাণের জন্যও পিন্ডি বা করাচির দরজায় দাঁড়াতে হয় না। এটাই বাংলাদেশের স্বকীয়তা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই স্বকীয়তা চিন্তার মধ্যে এলেই বোঝা যায় যে কে তা সম্মান করে, কে মর্যাদা দেয়, আর এই স্বকীয়তা বজায় রাখতে কোন কোন শক্তির সঙ্গে সম্মিলিতভাবে থাকতে হবে।

জিয়াউর রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতার উদাহরণ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৫–পূর্ববর্তী একদলীয় শাসনের কাঠামো থেকে বেরিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র, পশ্চিমমুখী অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও মুসলিম বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতার পথ তৈরি করেছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্জোট ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—কোথাও কোনো শত্রু তৈরি না করে সর্বত্র মিত্র গড়ে তোলা। এমনকি ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেও প্রশংসা আদায় করে তিনি দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলোকে সার্কের মাধ্যমে বহুপক্ষীয় কাঠামোয় নিয়ে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

জিয়াউর রহমানের সার্ক নীতি এবং বহুপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে চলার নির্জোট পররাষ্ট্রনীতি বর্তমান সরকারের কাছেও প্রধান দিকনির্দেশনা বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব নীতি অনুসরণের জন্য যে স্বকীয়তা আর স্বাধীনতা দরকার, তার শক্তি অর্জিত হয়েছে জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থান থেকে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ মুশতাক খান বলেন, জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ধারণার প্রবর্তন। এটা বাঙালি মুসলমানকে পরিচয়গত সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার একসময়ের ‘বান্টুস্তান’ ধারণার উদাহরণ টেনে মুশতাক খান বলেন, ভারতের আসল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক কাঠামো বজায় রেখেই পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করা।

আরও পড়ুন

মুশতাক খান আরও বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের মধ্যে যেমন বামপন্থী ছিলেন, তেমন ডানপন্থী ছিলেন, সেক্যুলার মার্কসিস্ট ছিলেন, ইসলামপন্থীরাও ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কমন জিনিস শুধু একটাই ছিল—তাঁরা অ্যান্টি–ইন্ডিয়ান ছিলেন। আর কিছু কমন ছিল না। বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য জিয়াউর রহমানকে একটা জাতীয় ঐক্য তৈরি করার দরকার ছিল।’

মুশতাক খানের এমন বক্তব্যের পর বাংলাদেশের কূটনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারকে আমদানির ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের ওপর, রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ওপর, রেমিট্যান্সের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কাজেই এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে এসব উপাদানকে সমন্বয় করতে পারে, এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি দেশের জন্য অপরিহার্য।

আরও পড়ুন

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের মতো উদীয়মান শক্তি, তার যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, আমরা টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনে সমস্যার সমাধান করতে প্রস্তুত। কিন্তু টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনটা আমার। আমার ইন্টারেস্টটা কনফার্ম করতে হবে।’

আরও পড়ুন