গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় বিমানের এমডি সাফিকুরসহ ৪ জনের রিমান্ড শুনানি মঙ্গলবার

সাফিকুর রহমানছবি: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইট থেকে

১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বীথিসহ চারজনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।

আজ রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া এই আবেদন করেন।

এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। এ ছাড়া এই মামলায় ভুক্তভোগী গৃহকর্মী আজ আদালতে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিদের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করতেন। মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত গরম খুন্তি আসামিরা কোথায় রেখেছেন, সে সম্পর্কে জানেন। ভুক্তভোগীর শরীরের ক্ষতচিহ্ন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভুক্তভোগীকে অন্যভাবেও পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। এটাও আসামিরা জানেন।

মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনসহ মামলার ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের নাম–ঠিকানা সংগ্রহ ও খুন্তি উদ্ধারের লক্ষ্যে আটক আসামিদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা–পুলিশ। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাফিকুর, তাঁর স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন ওই বাসার অপর দুই গৃহকর্মী রূপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম। এ নির্যাতনের ঘটনায় সাফিকুরকে বিমানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় সরকার।

মামলার বাদী ওই গৃহকর্মীর বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। মামলায় তিনি বলেন, আসামি শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বীথির বাসার নিরাপত্তা প্রহরী জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাঁর (বাদী) পরিচয় হয়। সেই সূত্রে জাহাঙ্গীর জানতে পারেন তাঁর একটি ছোট্ট মেয়ে রয়েছে। তখন জাহাঙ্গীর তাঁকে জানান, এই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট একটি মেয়ে বাচ্চা খোঁজা হচ্ছে। পরে তিনি ওই বাসায় গিয়ে সাফিকুর ও বীথির সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা জানান, যাকে রাখবে, তার বিয়েসহ যাবতীয় খরচ তাঁরা বহন করবেন। এতে রাজি হয়ে গত বছরের জুন মাসে তিনি তাঁর ১১ বছর বয়সী মেয়েকে এই বাসায় কাজে দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় তিনি সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। তবে এরপর তিনি সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও পরিবারটি নানা অজুহাতে দেখা করতে দেয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি বেলা দেড়টার দিকে বীথি তাঁকে ফোন করে জানান, তাঁর মেয়েটি অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতে। তিনি দুইটার দিকে মেয়েকে আনতে যান। তখন বীথিকে ফোন করলে তিনি বাইরে আছেন জানিয়ে তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে বীথি সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ির বাইরে তাঁর কাছে মেয়েকে বুঝিয়ে দেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাদী তখন দেখেন তাঁর মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। মেয়েটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। কীভাবে এমন হলো, জানতে চাইলে বীথি সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। মেয়ে তাঁকে জানায়, গত ২ নভেম্বর তিনি দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে সাফিকুর রহমান, বীথিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাঁকে মারধর, খুন্তি গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে।

পরে বাদী এসব নিয়ে নিজের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করেন।

আরও পড়ুন