আখাউড়া-লাকসাম রেলপথে দুই লেনের উদ্বোধন কাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ এলাকায় চলছে রেলপথের দুই লেনের কাজ
প্রথম আলো ফাইল ছবি

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের ৭২ কিলোমিটার অংশ দুই লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের সম্পূর্ণ অংশ দুই লেন করা হলো। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি আখাউড়া-লাকসাম রেল অংশের দুই লেন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার অংশে আগে একটি রেললাইন ছিল। এখন তা দুই লেন করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আন্তনগর ট্রেনের যাতায়াত সময় পৌনে এক ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা কমবে। এ লাইনে এক সময় শুধু মিটারগেজ ট্রেন চলতে পারত। তবে দুই লেন চালু হওয়ার পর থেকে সেখানে মিটারগেজের পাশাপাশি ব্রডগেজ ট্রেনও চলতে পারবে।

‘আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রূপান্তর’ প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে প্রায় সাত বছর সময় লেগেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ দুবার বাড়ানো হয়েছিল।

করোনা মহামারি এবং প্রকল্প এলাকার কসবা ও সালদা নদী অংশে প্রতিবেশী দেশের (ভারত) আপত্তিতে নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ করা যায়নি বলে দাবি করেন রেলওয়ের প্রকৌশলীরা। এই প্রকল্পে সাতজন প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করা হয়েছিল।

রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ওই সময় কাজ শেষ হয়নি। এরপর ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু প্রকল্পের বেশির ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর আপত্তির মুখে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কসবা রেলস্টেশন, স্টেশনের ডাবল লাইন ও সালদা রেলসেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতর কাজ হচ্ছে, এমন অজুহাতে বিএসএফ বাধা দিয়েছিল। আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের মার্চে আবার কাজ শুরু হয়।

রেলওয়ের এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. সবুক্তগীন প্রথম আলোকে বলেন, আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত রেল অংশটি দুই লেনে উন্নীত হওয়ায় অনেক ধরনের সুফল পাওয়া যাবে। বিশেষ করে, আন্তনগর ট্রেনগুলোর যাতায়াত সময় অন্তত এক ঘণ্টা কমে যাবে। আর পণ্যবাহী ট্রেন ও লোকাল ট্রেনগুলোকে আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। দুই লেনের কারণে এসব ট্রেনের অপেক্ষার সময়ও কমে আসবে।

মো. সবুক্তগীন আরও বলেন, আগে রেললাইনের অবস্থা নড়বড়ে ছিল। এখন আধুনিকায়ন করা হয়েছে। আর এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যে পরিমাণ ট্রেন চলাচল করে, দুই লেন হওয়ার কারণে তার চেয়ে আড়াই গুণ বেশি ট্রেন চলাচল করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাতায়াতে আন্তনগর ট্রেনগুলোর সোয়া ৫ থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। এর মধ্যে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস বিরতিহীনভাবে চলাচল করে। তাদের সাধারণত ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মতো সময় লাগে। এখন দুই লেন হওয়ার কারণে এসব ট্রেন সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন ৩২০ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার দীর্ঘ। আগে থেকে এ রেললাইনের ১১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত দুই লেনের ছিল। এরপর তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে লাকসাম-চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ৬১ কিলোমিটার, টঙ্গী-ভৈরব বাজার পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার এবং ২য় ভৈরব ও ২য় তিতাস সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৬ কিলোমিটার অংশ দুই লেনে উন্নীত করা হয়। পরে আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার অংশে মিশ্রগেজের দুই লেন নির্মাণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রকল্পে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন