অবৈধ সম্পদ ও জালিয়াতির অভিযোগ, হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করবে দুদক

ওসমান হাদির হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদছবি: ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সংগঠক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এসব মামলা করা হবে।

একই ঘটনায় ফয়সাল করিমের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধেও সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আজ সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, জাল দরপত্র বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে দুটি কোম্পানিকে জয়েন্ট ভেঞ্চারে যুক্ত করার কথা বলে টেন্ডার সিকিউরিটি হিসেবে ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকার পে–অর্ডার নেওয়া হয়। পরে জাল ও বানোয়াট ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে মিডল্যান্ড ব্যাংকে ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসাব খোলা হয়। ওই হিসাবের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, জাল দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইনডিড ক্লাউড বিডির হিসাব থেকে অর্থ প্রথমে ফয়সাল করিমের নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অ্যাপল সফট আইটির হিসাবে নেওয়া হয়। পরে ওই অর্থ তাঁর নিজের নামে থাকা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। সবশেষে তাঁর স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার নামে একই ব্যাংকের বেনারসিপল্লি উপশাখায় এফডিআর করা হয়।

এ ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদ, মিডল্যান্ড ব্যাংকের রূপনগর উপশাখার তৎকালীন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম ও মো. সারোয়ার হোসেন এবং ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা হবে।

এ ছাড়া ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে পৃথক মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

আর ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৬৫ লাখ টাকার সম্পদ থাকার অভিযোগে তাঁকে সম্পদবিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।

গুলির ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওসমান হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। এ মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তে তাঁর ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও উঠে আসে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিআইডি ফয়সাল ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন

এর আগে হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই আদেশ দেন।

গত ৮ মার্চ ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। এরপর থেকে দুজন দেশটির কারাগারে আছেন।