প্রথম আলোর পোড়া ভবনে শিল্পের আলো

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রতিহিংসায় উন্মত্ত একদল উগ্রবাদী এসে হামলা করে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশের প্রধান গণমাধ্যম প্রথম আলো ভবনেছবি: প্রথম আলো
প্রদর্শনীর সময়সূচি ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৯-২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বেলা ১১টা থেকে ১টা বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা

রাতের অন্ধকারের ভেতর থেকে ছুটে এসেছিল বিদ্বেষপরায়ণ একদল উগ্র মানুষ। সেই অন্ধকারের প্রতিনিধিরা উন্মত্ত হামলা করল আলোর ঠিকানায়। সত্যের আলোকে প্রতিদিন ভোরে সূর্যালোকের সঙ্গে মিলিয়ে ২৬ বছর ধরে অগণিত মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া প্রতিষ্ঠানটি আক্রান্ত হলো নিদারুণভাবে। তারা চালাল লুটপাট, অগ্নিসংযোগের তাণ্ডব। কিন্তু আলোকে ম্লান করার শক্তি অন্ধকারের হয়নি। অগ্নিদগ্ধ সেই ভবনটিতে এই নববসন্তে জেগে উঠেছে সাহস ও শিল্পের নতুন আলোর উদ্ভাস।

প্রথম আলোর পুড়ে যাওয়া এই ভবনেই কাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ‌‘আলো’ নামের এক বিশেষ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। দেশের বিশিষ্ট শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমান তাঁর নান্দনিক ভাবনায় দগ্ধ ভবনটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্প ও সাহসের আলো
ছবি: প্রথম আলো

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রতিহিংসায় উন্মত্ত একদল উগ্রবাদী এসে হামলা করে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশের প্রধান গণমাধ্যম প্রথম আলো ভবনে। তারা ভবনটির শাটার ও বড় বড় কাচের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। লুটপাট চালায়। আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এমনকি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তারা ফায়ার সার্ভিসকে পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসতে দেয়নি। আক্রমণকারীরা পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদেরও বেপরোয়াভাবে বাধা দেয়। একসময় ভবনটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। ওই রাতে উগ্রবাদীরা দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিস ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে।

জনসাধারণের কাছে সত্য তথ্য তুলে ধরার ব্রত নিয়ে ২৬ বছর ধরে অবিচল পথচলা প্রথম আলোর ছাপা পত্রিকার প্রকাশনা প্রথমবারের মতো ১৯ ডিসেম্বর বন্ধ থাকে। তবে কর্মীদের দৃঢ় প্রত্যয় আর সাহসিকতায় মাত্র ১৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম আলো আবার ঘুরে দাঁড়ায় তার অনলাইন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। সূর্যোদয়ের আলো গায়ে মেখে ২০ ডিসেম্বর আবার মুদ্রিত প্রথম আলো পৌঁছে যায় সারা দেশে অধীর আগ্রহে থাকা পাঠকের হাতে হাতে।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলায় পুড়ে যাওয়া প্রথম আলো ভবনের স্থিরচিত্র নিজের মোবাইলের ক্যামেরায় ধারণ করছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম
ছবি : প্রথম আলো

প্রথম আলোর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনসাধারণকে উত্তেজিত করার দুরভিসন্ধিমূলক অপকর্ম চালিয়ে আসছে একটি মহল বহুদিন থেকেই। প্রথম আলো তাদের নির্মম প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিল ওই রাতে। ব্যাপক হামলা ও ধ্বংসের তাণ্ডব চালানোর ফলে প্রথম আলো অনলাইন সংবাদপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

জনসাধারণের কাছে সত্য তথ্য তুলে ধরার ব্রত নিয়ে ২৬ বছর ধরে অবিচল পথচলা প্রথম আলোর ছাপা পত্রিকার প্রকাশনা প্রথমবারের মতো ১৯ ডিসেম্বর বন্ধ থাকে। তবে কর্মীদের দৃঢ় প্রত্যয় আর সাহসিকতায় মাত্র ১৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম আলো আবার ঘুরে দাঁড়ায় তার অনলাইন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। সূর্যোদয়ের আলো গায়ে মেখে ২০ ডিসেম্বর আবার মুদ্রিত প্রথম আলো পৌঁছে যায় সারা দেশে অধীর আগ্রহে থাকা পাঠকের হাতে হাতে।

প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তারা ফায়ার সার্ভিসকে পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসতে দেয়নি। আক্রমণকারীরা পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদেরও বেপরোয়াভাবে বাধা দেয়। একসময় ভবনটি ভস্মীভূত হয়ে যায়।

প্রথম আলোর পুড়ে যাওয়া এই ভবনেই কাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ‌‘আলো’ নামের এক বিশেষ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। দেশের বিশিষ্ট শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমান তাঁর নান্দনিক ভাবনায় দগ্ধ ভবনটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্প ও সাহসের আলো। আগুন যে ভবন গ্রাস করেছিল, আজ সেখানেই পড়েছে রঙের প্রলেপ, দীপ্র রেখার টান। পোড়া বই, বিধ্বস্ত অভ্যন্তর, কয়লা হয়ে যাওয়া দ্রব্যগুলোই রূপান্তরিত হয়েছে শিল্পের উপকরণে। আর এসবের ভেতর থেকে জেগে ওঠা এই আলো যেন সেই চিরসত্যকেই আবারও জানিয়ে দিচ্ছে, অন্ধকার বড়ই ক্ষণস্থায়ী।

আরও পড়ুন
শাটার ভেঙে প্রথম আলো ভবনের ভেতরে ঢুকে মালামাল লুট করে হামলাকারীরা
ছবি: প্রথম আলো

এ প্রদর্শনী শুরু হবে কাল ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার। উদ্বোধনী দিনে বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

শিল্পী ভবনের সামনের দৃশ্যটি পুড়ে যাওয়ার পর যেমন ছিল, তেমনই রেখেছেন। নিচের তলায় দগ্ধ শাটারের ওপর বিশালাকার গ্রাফিতি এঁকেছেন। জুলাই বিপ্লবের পর এই গ্রাফিতিই হয়ে উঠেছিল জনমানসের আশা-আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি।

দর্শকেরা ভবনটির সামনে এলেই দেখবেন এর সামনে আছে একটি বাগানের আদল। সেখানে সবুজ স্নিগ্ধ মৌসুমি ফুল-ফলের গাছপালা। তার ওপর দিয়ে দর্শকের দৃষ্টি প্রসারিত হয়ে পৌঁছে যাবে সেই আগুনের লেলিহান শিখায় দগ্ধ ভবনটির ওপর। শিল্পী ভবনের সামনের দৃশ্যটি পুড়ে যাওয়ার পর যেমন ছিল, তেমনই রেখেছেন। নিচের তলায় দগ্ধ শাটারের ওপর বিশালাকার গ্রাফিতি এঁকেছেন। জুলাই বিপ্লবের পর এই গ্রাফিতিই হয়ে উঠেছিল জনমানসের আশা-আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি। তরুণ প্রজন্ম এতে প্রকাশ করেছিল এক মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের প্রত্যাশা। অথচ জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা কালিমালিপ্ত করতে চেয়েছিল উগ্রবাদীরা।

প্রথম আলোর পুড়ে যাওয়া এই ভবনেই কাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ‌‘আলো’ নামের এক বিশেষ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। দেশের বিশিষ্ট শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমান তাঁর নান্দনিক ভাবনায় দগ্ধ ভবনটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্প ও সাহসের আলো।
প্রথম আলো ভবনে লুটপাট ও ভাঙচুরের পর আসবাব–নথিপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা
ছবি: প্রথম আলো

এই ভবনে যেসব অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা ছিল, সেগুলো কাজে লাগানোর কোনো উপায়ই ছিল না। দর্শকেরা ভবনের নিচের তলায় বাঁ পাশের কক্ষে দেখবেন তেমন কিছু পুড়ে যাওয়া অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকে চারটি প্রমাণ আকারের ভাস্কর্য। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে আলো ও ছায়ার প্রক্ষেপণ ও শব্দ। অগ্নিকাণ্ডের সময় ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও থেকে এই শব্দগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন থেকে নেওয়া কিছু সংলাপ। কক্ষের সামনের একটি বড় অংশের বিধ্বস্ত অবস্থা হুবহু একইভাবে রাখা হয়েছে। আর ডান পাশে আছে বেশ কিছু ড্রয়িং ও মিশ্রমাধ্যমের কাজ।

এই বিশালাকৃতির শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে বাস্তব উপকরণ, ভিডিও চিত্র, আলোকচিত্র, আলো, শব্দ, ভাস্কর্য, চিত্রকলা, কাব্যনাট্যসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যঞ্জনাময় উপাদান প্রয়োগ করা হয়েছে। এখানে আছে এই দগ্ধ ভবনে যাঁরা কাজ করতেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার। তাঁরা তাঁদের কর্মস্থল নিয়ে আত্মতৃপ্তির পাশাপাশি ব্যক্তিগত আবেগ ও বেদনার কথা বলেছেন। তাঁদের নিত্যব্যবহৃত সামগ্রী নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন।

লিফট পুড়ে গেছে। সেই পোড়া অংশ একই রকম অবস্থায় আছে। দর্শকদের উঠতে হবে সিঁড়ি বেয়ে। এই সিঁড়িটিও দগ্ধ হয়েছিল। তবে এখানে ছাই, কয়লা ও ধোঁয়ার কালশিটে দাগ মুছে দেওয়া হয়েছে তিনটি রঙের প্রলেপ। গৌরব ও রমণীয়তার প্রতীক গোলাপি, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতার প্রতীক হলুদ এবং জীবন ও উর্বরতার প্রতীক সবুজ রঙের আবহের ভেতর দিয়ে দর্শক এসে সম্মুখীন হবেন এক বীভৎস ধ্বংসস্তূপের মধ্যে। ফলে জীবন ও মৃত্যু, ধ্বংস ও সৃষ্টি, অন্ধকার ও আলোর বৈপরীত্য তাঁরা আনায়াসে হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন।

লিফট পুড়ে গেছে। সেই পোড়া অংশ একই রকম অবস্থায় আছে। দর্শকদের উঠতে হবে সিঁড়ি বেয়ে। এই সিঁড়িটিও দগ্ধ হয়েছিল। তবে এখানে ছাই, কয়লা ও ধোঁয়ার কালশিটে দাগ মুছে দেওয়া হয়েছে তিনটি রঙের প্রলেপ।
প্রথম আলো ভবনে লুটপাটের ছবি তুলতে গেলে ভয় দেখায় কুড়াল হাতে এই হামলাকারী
ছবি: প্রথম আলো

শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমান জানালেন, এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি প্রথমে বিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। তারপর ভেবেছেন প্রথম আলো যে ভয়াবহ হিংস্রতার শিকার হয়েছিল, তা সাধারণ দর্শকের সামনে তুলে ধরার কথা। একই সঙ্গে চেষ্টা করেছেন এত বড় আঘাতের পরও যে আত্মশক্তি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেই ইতিবাচক দিকটিও ফুটিয়ে তুলতে। এই দুই বৈপরীত্যকে মিলিয়েই তিনি ধ্বংসের মধ্য থেকে শিল্পের সুষমা সৃষ্টির প্রয়াসী হয়েছেন। সে কারণে এই পোড়া ইট, লোহা, আসবাবের মধ্য সবুজ, সজীব উদ্ভিদ ও পায়রার মতো প্রাণবান সত্তাকে শিল্পের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন তিনি।

উগ্রবাদী হামলাকারী, লুটেরার দল অন্ধকার থেকে এসে ফের মুখ লুকিয়েছে অন্ধকারেই। জেগে উঠেছে আলো। আলো চিরকালই অম্লান।

এই বিশালাকৃতির শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে বাস্তব উপকরণ, ভিডিও চিত্র, আলোকচিত্র, আলো, শব্দ, ভাস্কর্য, চিত্রকলা, কাব্যনাট্যসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যঞ্জনাময় উপাদান প্রয়োগ করা হয়েছে। এখানে আছে এই দগ্ধ ভবনে যাঁরা কাজ করতেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার। তাঁরা তাঁদের কর্মস্থল নিয়ে আত্মতৃপ্তির পাশাপাশি ব্যক্তিগত আবেগ ও বেদনার কথা বলেছেন। তাঁদের নিত্যব্যবহৃত সামগ্রী নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন। এর মধ্যে বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছিল ‘লকার’–এর কথা। অনেকের কথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিল্পী ভিন্নমাত্রায় তা উপস্থাপন করেছেন। দর্শকেরা দেখবেন দেয়ালে ঝোলানো বড় আকারে ধাতব তালা। দেখবেন পুড়ে যাওয়া লকারগুলো বিভিন্ন স্থানে।

ভবনের চতুর্থ তলার কক্ষের একাংশে রয়েছে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে পায়রার ঝাঁক। কক্ষটির টবে রাখা পুড়ে যাওয়া গাছপালা, চায়ের পেয়ালা, গ্লাস, আসবাবসহ নানান সরঞ্জাম সাজানো হয়েছে এখানে।
সংগঠিত আক্রমণকারীদের আগুনে পুড়ে যায় প্রথম আলো ভবন
ছবি: প্রথম আলো

ভবনের দ্বিতীয় তলায় ডান দিকের কক্ষে আছে পোড়া–আধপোড়া বই নিয়ে তৈরি করা একটি বিশেষ স্থাপনা। সামনের বিধ্বস্ত অংশের ভেতরে সাদা কাপড় ও ধাতব আকৃতি দিয়ে তৈরি করা মানুষের অবয়ব দেখা যাবে ভাসমান বা চলমান অবস্থায়। যেগুলো ওই ভবনে থাকা অনেক মানুষে স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ–আতঙ্কের প্রতীক আকারে আসবে।

শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমান জানালেন, এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি প্রথমে বিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। তারপর ভেবেছেন প্রথম আলো যে ভয়াবহ হিংস্রতার শিকার হয়েছিল, তা সাধারণ দর্শকের সামনে তুলে ধরার কথা। একই সঙ্গে চেষ্টা করেছেন এত বড় আঘাতের পরও যে আত্মশক্তি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেই ইতিবাচক দিকটিও ফুটিয়ে তুলতে।

তৃতীয় তলায় ডান পাশের কক্ষে বর্গাকার ও বাঁ পাশের কক্ষে পিরামিডের আকারে আছে দুটি বড় আকারের ধাতব স্থাপনা। এগুলো তৈরি করা হয়েছে ভবনটিতে আগুনের তাপে ঝলসে যাওয়া বেঁকে, দুমড়েমুচড়ে যাওয়া নানা প্রকারের ধাতব সামগ্রী দিয়ে। ধাতব সামগ্রীগুলোর আকৃতি হুবহু রাখা হয়েছে। এ থেকে দর্শকেরা অনুভব করতে পারবেন অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা। এখানে দর্শকেরা অডিওতে শুনতে পাবেন হামলার সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা। এসবের পেছনে আছে কালো তারকাখচিত একটি বড় কালো পতাকা।

ভবনের চতুর্থ তলার কক্ষের একাংশে রয়েছে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে পায়রার ঝাঁক। কক্ষটির টবে রাখা পুড়ে যাওয়া গাছপালা, চায়ের পেয়ালা, গ্লাস, আসবাবসহ নানান সরঞ্জাম সাজানো হয়েছে এখানে।

এসব নিয়েই ধ্বংসস্তূপকে শিল্পের কল্পনায় সাজিয়েছেন শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমান। ভবনের ক্ষতবিক্ষত দেয়াল হয়ে উঠেছে তাঁর ক্যানভাস। দগ্ধ লোহালক্কড়, ছেঁড়াফাটা বই, পিসির গলিত মনিটর প্রভৃতি হয়ে উঠেছে তাঁর শিল্পের উপকরণ। উগ্রবাদী হামলাকারী, লুটেরার দল অন্ধকার থেকে এসে ফের মুখ লুকিয়েছে অন্ধকারেই। জেগে উঠেছে আলো। আলো চিরকালই অম্লান।