মেয়র আতিকুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন নতুন ট্রাস্টি বোর্ডে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে, সাবেক অর্থ ও বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অনারারি অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মশিউর রহমান, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক মেখলা সরকার, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (আইইবি) সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সদস্য ইসরাত জাহান নাসরিন, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক সেলিম মাহমুদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মারুফা আক্তার (পপি) এবং সোশ্যাল ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিহির কান্তি ঘোষাল। এ ছাড়া পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যও এই বোর্ডে আছেন।

এর আগে ১৬ আগস্ট নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছিল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওবি) কিছু সদস্য এবং কর্মকর্তা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় জড়িত বলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

মানারাতের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৬ (১০) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করায় এই আইনের ৩৫ (৭) ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করে দিয়েছেন।

পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক আদেশে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ তদন্তে দেখা যায়, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ও প্রমাণ রয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও কিছু কর্মকর্তা মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জঙ্গি কার্যক্রমের পাশাপাশি জামায়াত-শিবিবের রাজনৈতিক কাজে যুক্ত করেন। তাঁদের রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে তাঁরা শিক্ষার্থীদের উসকে দেন এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ধারা ৬ (১০)-এ বলা আছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত হতে পারে এমন কোনো কার্যকলাপে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করবে না বা সন্ত্রাসী বা জঙ্গি তৎপরতা বা এই জাতীয় কোনো কার্যকলাপে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবেই কোনো পৃষ্ঠপোষকতা করবে না।

জানতে চাইলে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। এ জন্য তাঁরাও ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩৫ (৭) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কারণে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিলে কিংবা এর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত ও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে আচার্য প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশ দিতে পারবেন। এ বিষয়ে আচার্যের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।