বঙ্গভবনের প্রোগ্রামার এখনো ডিবি হেফাজতে, ১৯ ঘণ্টায়ও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি

আটকপ্রতীকী ছবি

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট (সাবেক টুইটার) হ্যাকড হওয়ার ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে ধরে নেওয়ার ১৯ ঘণ্টা পরও তাঁর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারেনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোর জিজ্ঞাসায় বলেন, ‘তাঁর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে। তিনি আমাদের হেফাজতে আছেন।’

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশের সরকারি কোয়ার্টার থেকে ছরওয়ারে আলমকে ধরে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জব্দ করা হয় তাঁর মুঠোফোন ও ল্যাপটপ।

জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, ছরওয়ারে আলমের সরকারি মেইল ব্যবহার করে জামায়াতের মেইলে ফাইল পাঠিয়ে দলের আমির শফিকুর রহমানের এক্স আইডি হ্যাক করা হয়। এই ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।

ডিবি সূত্র বলছে, গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়। এ ছাড়া ছরওয়ারে আলমকে আইনের আওতায় আনতে জামায়াতের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে তাঁকে আটক করে হেফাজতে নেয় ডিবি। তবে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি ডিবি কর্মকর্তারা।

ডিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ছরওয়ারে আলম সরকারি যে ই-মেইল ব্যবহার করতেন, সেটি আগেই হ্যাকড হয়েছিল। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন

গত শনিবার বিকেলে জামায়াতের আমিরের এক্স হ্যান্ডল থেকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের একটি অংশে লেখা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যখন নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তাঁরা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এটি অন্য কিছু নয়; বরং পতিতাবৃত্তির অন্য একটি রূপ।’

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়, যা পরে রাজপথে বিক্ষোভেও গড়ায়। বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন থেকে বলা হয়, জামায়াতের আমির কর্মজীবী নারীদের চরম অবমাননা করেছেন।

আরও পড়ুন

এমন প্রেক্ষাপটে শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে জামায়াতের অফিশিয়াল ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে জামায়াতের আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। শুধু জামায়াতের আমির নন, আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পরদিন রোববার সকালে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে জামায়াত। সংবাদ সম্মেলনে একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে দলের আমিরের এক্স হ্যান্ডল হ্যাক হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন জামায়াতের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইটি) সেলের দুই সদস্য প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম ও প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান।

জামায়াতের আমিরের এক্স হ্যান্ডল কীভাবে হ্যাকড হয়েছে, তা দেখান প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি মেইল ব্যবহার করে কাজটি করা হয়েছে। কেউ [email protected] এই সরকারি মেইল ব্যবহার করে জামায়াতের মেইলে একটি ফাইল পাঠিয়েছে। যেখানে নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য আছে বলে একটা ফাইল সংযুক্ত করা ছিল। যাঁর মেইল থেকে এসেছে, তাঁর নাম ছরওয়ারে আলম, তিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে কাজ করেন।

তবে হ্যাকড হওয়ার এই দাবি নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্সে পোস্ট দেওয়া এবং অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাওয়া দাবি করা নিয়ে সংগত কারণেই প্রশ্ন ওঠে, নারীবিদ্বেষী পোস্টের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সমালোচনার মুখে, দিবাগত রাত ১টার দিকে (১২টা ৪০ মিনিট) আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক?

আরও পড়ুন