সূত্র জানায়, গ্রামীণফোনের সিম নিতে না পেরে বিভিন্ন বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিষয়টি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসিকে জানানো হয়। পাশাপাশি গ্রামীণফোন সেবার মান উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বিটিআরসিকে জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুধু ৭৮ হাজার সিম বিক্রির অনুমতি পেল গ্রামীণফোন।

আজ রোববার প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া বিটিআরসির এক চিঠিতে বলা হয়, শর্তসাপেক্ষে গ্রামীণফোন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে ৬ হাজার ৫১৯টি, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুকূলে ২১ হাজার ৪৮১টি, বেসরকারি করপোরেট গ্রাহকের অনুকূলে ৩৫ হাজার, ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সার্ভিস (ভিটিএস) সেবার জন্য ১০ হাজার এবং মুঠোফোন নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলের সেবা এমএনপির (মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি) জন্য ৫ হাজার সিম দিতে পারবে।

বিটিআরসি যেসব শর্ত দিয়েছে তা হলো বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরসহ (ডিজিএফআই) চিঠিতে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে যেসব ব্লক/নম্বর বরাদ্দ হয়েছে, শুধু সেসব ব্লক/নম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সিম দেওয়া যাবে। গ্রামীণফোন গ্রাহকদের নম্বর বরাদ্দে অতিরিক্ত কোনো ফি আরোপ করতে পারবে না। নতুন বরাদ্দকৃত সিমের বিক্রিসংক্রান্ত তথ্যের মাসিক প্রতিবেদন বিটিআরসিকে দিতে হবে।

গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার কারণ গত ৬ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। তিনি বলেছিলেন, ‘সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণ, যেদিন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়, সেদিন সেখানে নেটওয়ার্ক ভালো ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সেটা প্রত্যক্ষ করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আমাদের সচিবকে ফোন করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।’ তিনি বলেন, এর আগেও প্রচুর অভিযোগ ছিল এবং এখনো আছে। সেবার মান খারাপ। এ ছাড়া আদালতে রিটও ছিল। এগুলো বিবেচনায় মন্ত্রী (টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার) গ্রামীণফোনের নতুন সিম বিক্রি বন্ধের জন্য বলেছিলেন।’

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, সেবার মান উন্নত করতে তারা আগে থেকে কাজ করছিল। সিম বিক্রি বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে তারা মানোন্নয়নে কী কী করবে, তার একটি প্রতিশ্রুতি দেয়। এর অংশ হিসেবে প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে গত বছরের মার্চে নেওয়া তরঙ্গ পুরোপুরি নেটওয়ার্কে স্থাপন করেছে। ১ নভেম্বর থেকে গত মার্চে নেওয়া নতুন তরঙ্গ স্থাপনের কাজ করছে। অপারেটরগুলোর মধ্যে টাওয়ার ব্যবহার ভাগাভাগির জন্য চুক্তির বিষয়টি সুরাহা হওয়ার পর প্রক্রিয়াধীন।

নিজেদের মোট ৩৪ শতাংশ টাওয়ার এক বছরের মধ্যে ফাইবার অপটিক কেব্‌ল দিয়ে সংযুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল গ্রামীণফোন, যার ২৭ শতাংশ শেষ হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এসব পদক্ষেপ নেওয়ায় তাঁদের সেবার মান উন্নত হয়েছে। ৪জি ইন্টারনেটের গতি যেখানে ৭ মেগাবাইট পার সেকেন্ড (এমবিপিএস) ছিল, সেটা এখন ১২ এমবিপিএসের ওপরে উঠেছে। বিটিআরসির এক অনুষ্ঠানেও বিষয়টি উঠে আসে। এর পাশাপাশি গ্রামীণফোন নিজেরা পরীক্ষা চালিয়ে সেই প্রতিবেদন বিটিআরসিকে দিয়েছে। তারা চায়, বিটিআরসি পরীক্ষা করে দেখুক পরিস্থিতি আসলে কী।

বিটিআরসির তথ্য বলছে, গত জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে গ্রামীণফোনের গ্রাহক কমেছে সাড়ে ২৮ লাখ।

গ্রামীণফোনের জ্যেষ্ঠ পরিচালক হোসেন সাদাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে হাতে গোনা কিছু করপোরেট নম্বর বিক্রির নির্দেশনা পেয়েছি। সেই সঙ্গে অবাক হয়েছি। নেটওয়ার্ক সেবার মান উন্নয়নের পরও সাধারণ গ্রাহকের চাহিদাকে বিবেচনাই নেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও বলতে চাই, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা গ্রাহক স্বাধীনতা, ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিপন্থী। একই সঙ্গে এটি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে।’