সোমবার সিপিজের এক টুইটে বলা হয়, পুলিশের তদন্তকারীরা প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলাটি খারিজের আবেদন জানিয়েছিলেন। এরপরও ঢাকার একটি আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে সিপিজে খুবই হতাশ। ধারাবাহিক এই আইনি হয়রানি শিগগিরই বন্ধ করতে হবে।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ২০২১ সালের ১৭ মে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আক্রমণের শিকার হন। তাঁকে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে তাঁকে শত বছরের পুরোনো ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে’ গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলা তদন্ত করে গত বছরের জুলাইয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রোজিনা ইসলামকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তাতে বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সপক্ষে কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি।

এই মামলার বাদী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী সোমবার আদালতে হাজির হয়ে ওই প্রতিবেদনে নারাজি দেন। আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এক টুইটে বলেছে, বাংলাদেশে দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় পুলিশি তদন্ত হয়। সাত মাস আগে দেওয়া প্রতিবেদনে তাঁর দোষ পাওয়া যায়নি। কিন্তু আজকে অবাক করার মতো বিষয় ঘটেছে, আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল মনে করে, এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চাপ রয়েছে। বার্লিনভিত্তিক সংস্থাটি বলেছে, প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন, এমন ভয় থেকে মুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের কাজ করার স্বাধীনতা থাকতে হবে। অন্যান্য পক্ষের অযৌক্তিক প্রভাবমুক্ত থেকে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ‘সেরা অদম্য সাহসী’ হিসেবে ২০২১ সালে ফ্রি প্রেস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এ ছাড়া গত বছরের ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২২ সালের ‘অ্যান্টি-করাপশন চ্যাম্পিয়নস অ্যাওয়ার্ড’ পান প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রোজিনা ইসলাম।