মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিকাশের ইভিপি ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুস্তফা কামরুল আখতার। আরও উপস্থিত ছিলেন বিকাশের রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান ও বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার।

বিজ্ঞানচর্চায় স্কুলশিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে যৌথভাবে এ উৎসবের আয়োজন করছে মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ ও বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী বিজ্ঞানচিন্তা। উৎসবে অংশ নিতে পিটিআই স্কুলের মাঠে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সকাল সাতটা থেকে জড়ো হয়।

বিজ্ঞান উৎসব আয়োজন করায় বিকাশ ও বিজ্ঞানচিন্তাকে ধন্যবাদ জানান ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ। তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে ওঠার প্রেরণা দেন। বলেন, ‘বিজ্ঞান হলো বিশেষ একটা জ্ঞান। বিশেষ জ্ঞান বিভিন্ন ধারায় থাকে। আমরা বলি চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান। বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ধানের উৎপাদন বেড়েছে, ডিমের উৎপাদন বেড়েছে। চলার পথে তুমি কোনো সমস্যার মধ্যে পড়লে, তুমি তার সমাধানটাও করবে বিজ্ঞানের জ্ঞান দিয়ে।’

বিজ্ঞানের আশীর্বাদ ও অভিশাপ—দুটোই আছে উল্লেখ করে উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমাদের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে। মানুষের এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবতে হবে। বিজ্ঞানের আশীর্বাদটাই নিতে হবে।’

নিজের সন্তানের অর্জন নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন গৌতম বুদ্ধ দাশ। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে প্রথম আলোর গণিত অলিম্পিয়াডে একটা মেডেল নিয়ে এল একদিন। এরপর আবার বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হলো। দেশের বাইরে গিয়ে পুরস্কার আনল। এমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ পেল। প্রথম আলোর এই মঞ্চ থেকেই তার উত্থান। তোমরাও একদিন সফল হবে। সে জন্য পরিশ্রম করতে হবে। শিখতে হবে।’
অভিভাবকদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, সন্তান যেদিকে যেতে চায়, তাকে সেদিকে যেতে দিন। গণিত ভালোবাসলে উৎসাহ দিন। গণিত সব কাজেই লাগে। কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে হলে গণিত লাগে। আধুনিক মানুষ হতে গেলে বিজ্ঞান লাগে।

সাহিত্যিক ও সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘যে শিশুরা বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে বড় হবে, সে কখনো ধ্বংসাত্মক পৃথিবী মেনে নেবে না। বিজ্ঞান আমাদের প্রাণ বাঁচায়, আমাদের স্বপ্ন দেখায়। তাই বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে বড় হতে হবে। বিজ্ঞান আধুনিক করে তুলবে। ভাবতে শেখাবে।’

শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচিন্তা পড়ার পরামর্শ দেন বিশ্বজিৎ চৌধুরী। বলেন, ‘আমরা যখন বড় হয়েছি, তখন বিজ্ঞানচিন্তা ছিল না। অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়নি। এখন তোমাদের সামনে বিজ্ঞানচিন্তা আছে। এই ম্যাগাজিনের মাধ্যমে নতুন কিছু জানতে পারবে। তাই নিয়মিত বিজ্ঞানচিন্তা পড়তে হবে।’

বিজ্ঞান উৎসব আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামরুল আখতার। তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞান আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। একটা ছুরিও বিজ্ঞানের আবিষ্কার। সেই ছুরি দিয়ে সার্জারি করে প্রাণ বাঁচানো যায়। আবার প্রাণ নেওয়া যায়। ফলে বিজ্ঞানকে কল্যাণের কাজে ব্যবহার করতে হবে।’

প্রথম আলোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রথম আলো শুধু একটি পত্রিকা নয়। এটি একটি ইতিবাচক আন্দোলন। দেশকে পরিবর্তনের আন্দোলন। ফলে সবাইকে প্রথম আলোতে যুক্ত হতে হবে। আন্দোলনে শামিল হতে হবে।

বিকাশের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, বিজ্ঞানে বিকাশ—এই থিম নিয়ে বিজ্ঞানচিন্তার সঙ্গে ২০১৯ সাল থেকে সম্মিলিতভাবে বিকাশ এ আয়োজন করে আসছে। বিকাশ হলো বিজ্ঞানের উদ্ভাবন। এটি এখন দেশব্যাপী ছড়িয়ে গেছে। বিকাশ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখছে। ২০১১ সালে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিকাশ চালু হয়। কাজটি সফলতার সঙ্গেই করা হয়েছে।

দেশের প্রকৌশলীরা বিকাশ অ্যাপের অনেকগুলো ভার্সন তৈরি করেছেন বলে জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বিকাশ এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক বড় বড় প্রতিষ্ঠান বিকাশে বিনিয়োগ করেছে। বিকাশের উত্থানের পেছনে দেশের মানুষই জড়িত।

হুমায়ুন কবির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিজ্ঞানের কারণে আমরা গ্লোবাল সিটিজেন। বিজ্ঞানের কারণে পৃথিবী হাতের মুঠোয়। মোবাইল দিয়ে যেকোনো জিনিস তোমরা পড়তে পারো। শিখতে পারো। আর তোমরাই একদিন এ রকম নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেবে। তোমাদের ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে।’

প্রথম আলো বন্ধুসভা চট্টগ্রামের উপদেষ্টা ফাহিম উদ্দিন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। আয়োজনে সহযোগিতা করেন বন্ধুসভার বন্ধুরা।

আয়োজকেরা জানান, ‘বিজ্ঞানে বিকাশ’ স্লোগান সামনে রেখে সাতটি বিভাগীয় শহরে হবে আঞ্চলিক উৎসব। চট্টগ্রামের আয়োজনে বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও কুইজ প্রতিযোগিতা—দুই ক্যাটাগরিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিপড়ুয়া অন্তত ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

উৎসবে স্কুলের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রজেক্ট প্রদর্শনী ও কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একটি ক্যাটাগরিতে অংশ নেবে। আর কুইজ প্রতিযোগিতায় থাকবে দুটি ক্যাটাগরি। নিম্নমাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে অংশ নেবে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, আর মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে অংশ নেবে নবম থেকে দশম শ্রেণি ও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। শুধু নিবন্ধনকারী শিক্ষার্থীরা এই দুই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের খুদে বিজ্ঞানীদের এই মিলনমেলায় আরও থাকছে বিজ্ঞান ম্যাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রশ্নোত্তর পর্বসহ আরও অনেক মজার আয়োজন।