ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিনের আশঙ্কা, ছেলে হত্যার বিচার না–ও পেতে পারেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। একটাই দাবি, হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে তাদের যেন বিচারের মুখোমুখি করা হয়। একটাই প্রত্যাশা, ফারদিনের মায়ের মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

ছেলেকে কারা হত্যা করছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই কাজী নূর উদ্দিনের। তিনি বলেন, ‘আমি বা আমার ছেলে কারও ক্ষতি করিনি। আমার ছেলেকে কারা খুন করেছে, এ বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল হয়েছে। ফারদিনের চলাচলের ভিডিও ফুটেজ, সে কার সঙ্গে কথা বলেছে, কারা তাকে নিয়ে গেছে, ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেটি খুঁজে বের করবে।’

বেলা ২টা থেকে বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত ফারদিনের লাশ বুয়েট ক্যাম্পাসে রাখা হয়। পরে তাঁর লাশ নেওয়া হয় ডেমরার কোনাপাড়ার শান্তিবাগে। সেখানেই ফারদিন পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। ফারদিন নূরের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নয়ামাটি এলাকায়। গত শুক্রবার দুপুরের পর ডেমরার বাসা থেকে বুয়েটে আবাসিক হলের উদ্দেশে বের হন পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারদিন। তারপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। গত শনিবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। গতকাল সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শেখ ফরহাদ বলেন, ফারদিনকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর মাথার বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বুকের ভেতরে আঘাতের চিহ্ন আছে। প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে, এটি হত্যাকাণ্ড।

এদিকে ফারদিনের জানাজা শেষে তাঁর সহপাঠীসহ বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে হত্যার বিচার দাবি করেছেন। ফারদিনের সহপাঠী মাইন উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে ফারদিনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরদিন শনিবার ফারদিনের একটি সেশনাল কুইজে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। ওই দিনই বিষয়টি ফারদিনের পরিবার ও বুয়েট প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। ওই দিনই তাঁর বাবা কাজী নূর উদ্দিন রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মাকে বলেছিল, ‘কাল দুপুরে বাসায় ভাত খাব’

ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ফারদিন তাঁর মাকে বলেছিলেন, শনিবার তাঁর পরীক্ষা আছে। গ্রুপ স্টাডির জন্য তিনি এক দিন আগেই ক্যাম্পাসে যাচ্ছেন। শনিবার পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরবেন। কিন্তু ফারদিন আর ফিরলেন না।

কাজী নূর উদ্দিন বলেন, ‘বের হওয়ার সময় ফারদিন বলেছিল, “কাল (শনিবার) দুপুরে এসে ভাত খাব।” বের হওয়ার পর তাঁর মা জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছিল। আমার সুদর্শন ছেলেটি যাচ্ছে। সেই ছেলেটি আর ফিরবে না, এটি কোনো দিন ভাবিনি। আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই, তার হত্যার বিচার চাই।’