‘সময়মতো ব্যানার না দিয়ে ধোঁকা দিয়েছে’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। এখানে ভোটার ৬ লাখের বেশি।

ব্যানার ও ফেস্টুন করার জন্য যাঁকে টাকা দিয়েছিলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী সাবিনা জাবেদ, ওই ব্যক্তি সময়মতো কিছুই সরবরাহ করেননি। যে কারণে নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই কিছুটা পিছিয়ে পড়েন তিনি।

কিছুটা আক্ষেপের সুরে ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী সাবিনা জাবেদ গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারে ব্যানার করতে দিয়েছিলাম, সে করে দেয়নি। সময়মতো ব্যানার না দিয়ে ধোঁকা দিয়েছে। এক সপ্তাহ আগে টাকা দিয়েছিলাম। পরে আরেকজনের কাছে ব্যানার করতে দিয়েছি।’

আম প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা সাবিনা জাবেদ ঢাকা-১৮ আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলছে, “আপা আপনাকেই ভোট দেব।” তাই জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

আরও পড়ুন

এই আসনের বিভিন্ন এলাকায় যেসব প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন সেভাবে দেখা যায় না, তাঁদের একজন বাসদের সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত মাত্র দু-একজন এগিয়ে এসেছেন। কোনো সহযোদ্ধা, বন্ধু কেউ সেভাবে এগিয়ে এলেন না। পরে নিজের দুই মেয়ের কাছে টাকা নিয়ে কিছু ব্যানার টাঙিয়েছেন।

মই প্রতীকে নির্বাচন করা সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘ভোটাররা বলছে, আপনার মতো লোককেই আমরা খুঁজতেছি। কিন্তু আপনার তো ওই রকম প্রচার নাই, লোকজন নাই।’

ভোটাররা বলছে, আপনার মতো লোককেই আমরা খুঁজতেছি। কিন্তু আপনার তো ওই রকম প্রচার নাই, লোকজন নাই।
সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ,  বাসদের প্রার্থী

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১, ১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা-১৮ আসন। এই আসনের আওতায় উত্তরার ১৪টি সেক্টর, দলিপাড়া, বাউনিয়া, তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, ডুমনি, খিলক্ষেত ও কুড়িল এলাকা রয়েছে। মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৪১ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর প্রতীক শাপলা কলি।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (কেটলি প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আনোয়ার হোসেন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির জাকির হোসেন (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জসিম উদ্দিন। এর বাইরে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার (রেল ইঞ্জিন প্রতীক) ও মো. ইসমাইল হোসেন (হরিণ)।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ ও উত্তরার বিভিন্ন সেক্টর ঘুরেছেন প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক। দেখা গেছে বেশির ভাগ এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানার–ফেস্টুন বেশি। এর বাইরে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের নির্বাচনী ব্যানার–ফেস্টুন চোখে পড়ার মতো। হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসমাইল হোসেনের ব্যানার-ফেস্টুনও বিভিন্ন এলাকার মোড়ে একটি-দুটি করে দেখা গেছে।

এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রেল ইঞ্জিন প্রতীকে নির্বাচন করছেন মহিউদ্দিন হাওলাদার। বিভিন্ন এলাকা ঘুরেও তাঁর ব্যানার-ফেস্টুন চোখে পড়েনি। এ প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, কোনো ব্যানার-ফেস্টুন না টানিয়ে হেঁটে মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। বীজযুক্ত কাগজের প্রচারপত্র বিলাচ্ছেন।

তরুণ এই প্রার্থী বলেন, ‘মানুষ বলতে চায়, তোমরা এত দিন পরে কেন আসছ? তোমরা আগে কেন আসো নাই? আমরা তো এত দিন যাবৎ খুঁজতেছিলাম, তুমি কোথায়, কবে আসবা তুমি?’

মহিউদ্দিন বলেন, পরিবর্তনের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করতে পারাই তাঁর প্রথম বিজয়।

এই আসন থেকে মোমবাতি প্রতীকে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিনের দাবি, তাঁদের দলের আলাদা ‘ভোটব্যাংক’ রয়েছে এখানে। তাই তিনি সম্মানজনক ভোট পাবেন।

ঢাকা–১৮ আসনের ১৪ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁদের একজন দক্ষিণখানের বাসিন্দা আশরাফ হোসেন। তিনি বলেন, প্রার্থীদের বেশির ভাগ এই এলাকায় থাকেন না। কেউ কেউ এলাকার রাস্তাঘাটও ঠিকমতো চেনেন কি না, সন্দেহ আছে। এর মধ্যেও যে যোগ্য, তাঁকেই ভোট দেবেন তিনি।