২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ‘মাইনাস’ করতে বলেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী এএসআই মো. রাজু আহম্মেদ। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমানকে এহসানউল্লাহ বলেছিলেন, ‘মোস্তাফিজ, ঢাকায় দুজন আসামি ধরা পড়েছে। তাঁদের নিয়ে অভিযানে যেতে হবে। অভিযানে গোলাগুলি হতে পারে এবং আসামি দুজনকে মাইনাস করা লাগতে পারে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ মঙ্গলবার এমন জবানবন্দি দেন এএসআই রাজু আহম্মেদ। ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন।
২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত আগৈলঝাড়া থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন রাজু আহম্মেদ। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত আছেন।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়। এ ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চার আসামির মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অপর দুই আসামি বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দিতে রাজু আহম্মেদ বলেন, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এসআই মোস্তাফিজুর রহমান ও তিনি আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে যান। ওসির কক্ষে তৎকালীন এসপি এহসানউল্লাহকে বসে থাকতে দেখতে পান। তখন এহসানউল্লাহ মোস্তাফিজকে দুই আসামিকে মাইনাস করার কথা বলেন।
এসআই মোস্তাফিজুর এ কাজ করতে অস্বীকার করেন উল্লেখ করে জবানবন্দিতে রাজু আহম্মেদ বলেন, তখন তৎকালীন এসপি এহসানউল্লাহ তাঁকে (সাক্ষী রাজু) জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি পারবা না?’ এর জবাবে তিনি বলেন, ‘স্যার আমি নতুন মানুষ।’ তখন এহসানউল্লাহ বলেন, ‘বেটা মফিজের বাচ্চা মফিজ, হাঁটুর নিচে বুদ্ধি তোমার। তোমরা কীভাবে চাকরি কর আমি দেখে নিব।’ পরদিন সকালে তিনি শুনতে পান, উজিরপুর থানা থেকে দুজন পুলিশ সদস্যকে এনে দুই আসামিকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে।
‘রাতে অভিযান আছে, ক্রসফায়ার দিতে হবে’
এই মামলায় ৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন পরিদর্শক মনোরঞ্জন মিস্ত্রি। তিনি ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত আগৈলঝাড়া থানায় এসআই হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়ায় কোর্ট ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জবানবন্দিতে মনোরঞ্জন মিস্ত্রি বলেন, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তৎকালীন এসপি এহসানউল্লাহ আগৈলঝাড়া থানায় এসে ওসির কক্ষে বসেন। পরে তাঁকে ডাকা হলে তিনি যান। এসপি তাঁকে বলেন, ‘এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর একটি কাজ করে দিতে হবে। রাতে অভিযান আছে, ক্রসফায়ার দিতে হবে।’ তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে এসপি তাঁকে বলেন, ‘শালা তুমি এমপি সাহেবের কথা শুনবা না, আর এখানে চাকরি করবা। দেখি তুমি কীভাবে প্রমোশন নেও, তোমার এসিআর শেষ করে দিব।’