চিঠিতে বলা হয়েছে, দিনে চারটি টিউশনি করে মায়ের ডায়ালাইসিস খরচ চালান মুস্তাকিম। সপ্তাহে তিনবার মা নাসরিন আক্তারের ডায়ালাইসিস করাতে হয়। ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে ১০ জানুয়ারি রোগী ও তাদের স্বজনদের বিক্ষোভ সমাবেশে চমেকের সামনে অবস্থান করেন তিনি। ওই দিন পাঁচলাইশ থানার ওসি নাজিম উদ্দিন তাঁর মাকে লাথি মেরে টেনেহিঁচড়ে তাঁকে ধরে নিয়ে যান। পরে থানায় নিয়ে আরেক পুলিশ সদস্য তাঁকে মারধর করেন। তখন ওই পুলিশ সদস্য তাঁকে বলেন, ওসি স্যারের সঙ্গে আর বেয়াদবি করবি? অথচ তিনি কোনো বেয়াদবি করেননি। ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। পরে পুলিশ মামলা করে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পাঁচ দিন পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। পুলিশের নির্যাতনে তাঁর কোমরের নিচ থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত লাল হয়ে যায়। এখন তিনি বিশ্রামে আছেন।

মুস্তাকিম চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, তাঁকে নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যরা এখনো বহাল তবিয়তে থানায় আছেন। তাঁরা মামলা তদন্ত করলে সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এ অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চেয়ে চিঠিতে আবেদন করেছেন মুস্তাকিম। একই সঙ্গে ওসি নাজিমের শাস্তি চান তিনি।

চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানুয়ারি থেকে ভর্তুকি ডায়ালাইসিস সেশন কমিয়ে অর্ধেক করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে রোগীরা আন্দোলনে নামেন। ১০ জানুয়ারি হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রোগীর স্বজনেরা।

একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বিক্ষোভকারীদের। এ সময় মুস্তাকিমকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মুস্তাকিমের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করে। ৫ দিন পর ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান মুস্তাকিম।