হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ, স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করার আহ্বান

জার্মানির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আনিয়া কার্স্টেন এবং ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনেছবি: প্রথম আলো

সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত প্রথম আলোর প্রতি সংহতি জানাতে এলেন বাংলাদেশে জার্মানি ও ফ্রান্সের দুই রাষ্ট্রদূত। গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণে উদ্বেগ জানিয়ে স্বাধীন ও উন্মুক্ত তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানালেন তাঁরা।

জার্মানির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আনিয়া কার্স্টেন এবং ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে আজ মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলো কার্যালয়ে আসেন। তাঁরা গত বৃহস্পতিবারের হামলায় জ্বালিয়ে দেওয়া প্রথম আলো কার্যালয় ঘুরে দেখেন। সন্ত্রাসী হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত দুই দেশের রাষ্ট্রদূত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে সন্ত্রাসী আক্রমণ হয়। হামলাকারীরা ভাঙচুর-লুটপাটের পাশাপাশি সংবাদপত্র দুটির ভবন আগুনে পুড়িয়ে দেয়। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে এমন হামলায় দেশে ও বিদেশে নিন্দার ঝড় বইছে।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, ‘আমরা এখানে একজন সাংবাদিকের প্রতি, প্রথম আলোর গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য, যারা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে এসেছি। গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, মিডিয়া কোয়ালিশনের সদস্যদেশ হিসেবে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে একটি জোটের অংশ হিসেবে এখানে এসে সংহতি জানানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে তাঁদের।

জার্মানির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আনিয়া কার্স্টেন বলেছেন, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রয়োজন। কারণ, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাই সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করাটা জরুরি।

আনিয়া কার্স্টেন বলেন, ‘আমরা সংবাদমাধ্যম ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ জানাতে চাই। বিষয়টি (প্রথম আলোয় হামলা) গুরুত্বসহকারে দেখা দরকার। এর পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে স্বাধীন, ন্যায়সংগত এবং উন্মুক্ত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে আনিয়া কার্স্টেন বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করাই গণতন্ত্রের ভিত্তি; কারণ, গণমাধ্যমই জনগণকে তথ্য জানায়। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দরকার, আর এর মাধ্যমেই নাগরিকদের সচেতনতা ও শিক্ষায় সমর্থন নিশ্চিত করা যায়।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে নিরাপত্তা রক্ষার ওপর জোর দিয়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য আমাদের প্রত্যাশা হলো নিরাপদ নির্বাচন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। নিরাপত্তা না থাকলে কেউ নিজের মত প্রকাশ করতে পারে না। নিরাপত্তা একটি মৌলিক অধিকার।’

প্রথম আলো কার্যালয়ে দুই রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। ইউরোপের দুই কূটনীতিকের সঙ্গে আলাপের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক।

আরও পড়ুন

এদিকে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাউন্সেলর (পাবলিক অ্যাফেয়ার্স) মনিকা সাই ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা জেমস স্টুয়ার্ট সংহতি জানাতে আজ দুপুরে প্রথম আলো কার্যালয়ে আসেন। মার্কিন কূটনীতিকেরা প্রথম আলো সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তাঁরা গত বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক প্রথম আলো কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

আসকের সংহতি

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) উপদেষ্টা মাবরুক মোহাম্মদের নেতৃত্বে সংস্থার চারজন প্রতিনিধি আজ প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শনে আসেন। তাঁরা প্রথম আলোর প্রতি সংহতি জানান। পরে আসকের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবাদপত্রের কার্যালয়ে এ ধরনের হামলা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত নয়, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আক্রমণ। এ ধরনের ঘটনা সমাজে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং সাংবাদিকতা পেশার স্বাভাবিক ও নিরাপদ কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। এ ধরনের হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করে আসক।