তদন্ত কমিটির প্রধান যশোর শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক এম রব্বানী আজ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা কাজ শুরু করেছেন। বিতর্কিত প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজে যুক্ত ওই পাঁচ শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা। নির্ধারিত পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত রোববার অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে বিতর্কিত প্রশ্ন করা হয়। বিষয়টি জানাজানির পরই ওই বিতর্কিত প্রশ্ন প্রণয়নকারী ও চার পরিশোধনকারীকে (মডারেটর) চিহ্নিত করা হয়। তাঁরা সবাই যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন জেলার কলেজের শিক্ষক। এর মধ্যে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেছিলেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের ডা. সাইফুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পাল। আর চার পরিশোধনকারী হলেন নড়াইলের সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তাজউদ্দিন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুর রহমান, নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম।

এ বিষয়ে আজ ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেছেন, বিষয়টি অবহেলাজনিত নাকি ইচ্ছাকৃত, তা অবশ্যই দেখা দরকার। সেই তদন্ত চলছে। অবহেলাও যদি থাকে কিংবা যদি ইচ্ছাকৃত হয়, কোনোটিই কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

কী ধরনের ব্যবস্থা নেবেন, জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন এলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব, এটা নির্ভর করবে প্রতিবেদনে কী আসে, তার ওপর। কিন্তু অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সরকারি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বিভাগীয় মামলার ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে মন্ত্রণালয়। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এমপিও বাতিল বা স্থগিত হতে পারে। আর শিক্ষা বোর্ড ওই শিক্ষকদের বোর্ডের কাজে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে।