বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সদ্য স্বাধীন, কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত। প্রয়োজন ছিল নানামুখী সহযোগিতার। এ কাজ সেই যে শুরু করেছিলেন, করে গেছেন জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত। এখানেই শেষ নয়; তিনি যে চিরকাল থাকবেন না, সে উপলব্ধি থেকে গুছিয়ে দিয়ে গেছেন প্রতিষ্ঠানটিকে, ঠিক করে গেছেন উত্তরাধিকার। ব্র্যাকের সঙ্গে তাই ফজলে হাসান আবেদও বেঁচে থাকবেন এর সব কাজের মধ্য দিয়ে।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা

ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সিদ্দিক হাসান এবং মায়ের নাম সৈয়দা সুফিয়া খাতুন। সিদ্দিক হাসান ছিলেন হবিগঞ্জের সাবরেজিস্ট্রার। ফজলে হাসান আবেদের বাবা ও চাচারা কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া করেছেন।

ফজলে হাসান আবেদের দাদার নাম খানবাহাদুর রফিকুল ইসলাম। আর নানা খানবাহাদুর সৈয়দ মোয়াজ্জেম উদ্দীন হোসেন ছিলেন অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি মন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত কৃষিমন্ত্রী এবং পরে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। স্যার ফজলে হাসান আবেদের নানাবাড়ি ছিল কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে।

ফজলে হাসান আবেদ তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে। এরপর কুমিল্লা জিলা স্কুলে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯৫২ সালে পাবনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় অনার্স পড়ার জন্য ভর্তি হন। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া বাদ দিয়ে চলে যান ইংল্যান্ডে। তখন ফজলে হাসান আবেদের ছোট চাচা সায়ীদুল হাসান ছিলেন লন্ডনে পাকিস্তান দূতাবাসের বাণিজ্যসচিব। তিনি ভাতিজা আবেদকে স্কটল্যান্ডে গিয়ে গ্লাসগো ইউনিভার্সিটিতে নেভাল আর্কিটেকচারে ভর্তি হতে বলেন। ১৯৫৪ সালে স্কটল্যান্ডে গিয়ে গ্লাসগো ইউনিভার্সিটিতে নেভাল আর্কিটেকচারে ভর্তি হন। দুই বছর লেখাপড়া করার পরে নেভাল আর্কিটেকচার পড়া বাদ দিয়ে অ্যাকাউন্টিংয়ে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৫৬ সালে ফিরে আসেন ইংল্যান্ডে এবং ভর্তি হন অ্যাকাউন্টিংয়ে। ১৯৬২ সালে ‘কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং’-এর ওপর চার বছরের প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন।

default-image

স্যার ফজলে হাসান আবেদ ১৯৬৮ সালে দেশে ফেরেন। তখন গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে সাধারণ মানুষ সোচ্চার হচ্ছে। প্রতিদিনই মিছিল-মিটিং চলছে। একপর্যায়ে আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠল। শুরু হয়ে গেল উনসত্তরের গণ-আন্দোলন। ১৯৭০ সালে শেল ওয়েল কোম্পানির হেড অব ফাইন্যান্স হিসেবে চট্টগ্রামে যোগ দেন। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর উপকূলীয় অঞ্চলে হলো প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। সন্দ্বীপ, হাতিয়া, মনপুরা—এই তিন দ্বীপের লাখ লাখ মানুষ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে মৃত্যুবরণ করেছিল। তিনি এবং তাঁর বন্ধু ব্যারিস্টার ভিকারুল ইসলাম চৌধুরী, সহকর্মী কায়সার জামান, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আকবর কবীর এবং নটর ডেম কলেজের শিক্ষক ফাদার টিম মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন ত্রাণ বিতরণ করতে মনপুরাতে যাবেন। ‘হেল্প’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করে তার মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়েছিলেন। সর্বস্ব এবং স্বজন হারানো মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি তাঁরা তৈরি করে দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্যার ফজলে হাসান আবেদ শেল অয়েল কোম্পানির উচ্চপদের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ইসলামাবাদ ও কাবুল হয়ে লন্ডনে চলে যান। ১৯৭১ সালের মে মাসে লন্ডনে গিয়ে সমমনা বন্ধুদের সঙ্গে মিলে সম্পৃক্ত হন স্বাধীনতাসংগ্রামের লড়াইয়ে। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য গড়ে তোলেন ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ ও ‘হেল্প বাংলাদেশ’ নামে দুটি সংগঠন। অ্যাকশন বাংলাদেশের কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক সমর্থন আদায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষে জনমত তৈরি এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত কার্যকলাপ বন্ধের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকারকে সক্রিয় করে তোলা।

হেল্প বাংলাদেশের কাজ ছিল অর্থ সংগ্রহ করে মুক্তি বাহিনীকে সহযোগিতা করা। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরি করা, প্রচারণাপত্র বিলি করা, টাইমস অব লন্ডনে লেখা ও বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা, রেডিও ও টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়া, ইউরোপীয় দেশগুলোর পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্বদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিবিধ কর্মতৎপরতা পরিচালনা করা।

ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। আর ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে স্যার ফজলে হাসান আবেদ লন্ডন থেকে দেশে ফিরে এলেন। ফেরার সময় তাঁর লন্ডনের ছোট ফ্ল্যাটটি ৬ হাজার ৮০০ পাউন্ডে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালেই তিনি যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিটি, সংক্ষেপে ‘ব্র্যাক’, নামে একটি সংগঠন তৈরি করে সুনামগঞ্জের শাল্লা ও দিরাই অঞ্চলে কাজ শুরু করেন। শুরুতে ফ্ল্যাট বিক্রির টাকা দিয়ে কাজ শুরু করলেন।
ব্র্যাকের জন্ম ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। শুরুতে এর নাম ছিল বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিটি। ১৯৭৩ সালে ত্রাণ কার্যক্রমের গণ্ডি পেরিয়ে উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ শুরু করলে নাম হয় বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি। সংক্ষেপে ‘ব্র্যাক’ নামটি একই থেকে যায়। স্যার ফজলে হাসান আবেদের নেতৃত্বে চার দশকের মধ্যে ব্র্যাক পরিণত হয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায়।

default-image

শেষ সাক্ষাৎকার

স্যার ফজলে হাসান আবেদ মারা যান ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর। তিনি তাঁর জীবনের শেষ সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন প্রথম আলোকে। ওই বছরের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত সে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন ব্র্যাক গঠনের পটভূমির গল্প। তিনি বলেছিলেন, ‘১৯৭২ সালের শুরুর দিকে আমি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চল সুনামগঞ্জের শাল্লায় প্রায় দুই লাখ মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং পুনর্বাসনের কাজ শুরু করি। সে সময় বাংলাদেশে দারিদ্র্য এতটাই প্রকট ছিল যে আমি বুঝেছিলাম, ত্রাণকাজ শেষ হলেও এসব মানুষকে এভাবে ফেলে যাওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ তখন বিশ্বের দ্বিতীয় দরিদ্রতম দেশ। আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৭০ ডলারের নিচে। তার ওপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৩। একেকজন নারী গড়ে ছয়টির বেশি সন্তান জন্ম দিতেন। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের চল ছিল না বললেই চলে। সব মিলিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আমি যখন ব্র্যাক শুরু করেছিলাম, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে—এটাই ছিল তখন একমাত্র ভাবনা। কখনো ভাবিনি যে ব্র্যাক একদিন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ এনজিও হবে কিংবা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের বিস্তার ঘটাবে।’

জীবদ্দশায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ আরেকটি অনন্য স্বীকৃতিও দেখে গেছেন। অর্থনীতিতে ২০১৯ সালে নোবেল পেয়েছেন যে তিন অর্থনীতিবিদ—অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, এস্থার দুফলো ও মাইকেল ক্রেমার—তাঁদের মধ্যে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কাজ করেছেন ব্র্যাকের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির একটি মডেল নিয়ে। নোবেল পাওয়ার পর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘ব্র্যাকের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে দারিদ্র্য একটি সমস্যা নয়, বরং বহুমাত্রিক সমস্যা। কিছু প্রকল্প আছে, যার মাধ্যমে অতি দরিদ্রদের জন্য কাজ করা যায়। অন্য আরেকটি অংশ আছে, যারা তাদের চেয়ে কম দরিদ্র। ব্র্যাক অনেক আলাদা ধরনের প্রোগ্রাম করে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য-শিক্ষাও রয়েছে। তাদের ধারণা আমাদের মতোই। নানা সমস্যার নানা সমাধান আছে।’

নেতৃত্ব পরিবর্তনের অনন্য দৃষ্টান্ত

স্যার ফজলে হাসান আবেদ রেখে গেছেন প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের অনন্য এক দৃষ্টান্ত। ২০১৯ সালেরই আগস্ট মাসে তিনি স্বেচ্ছায় চেয়ারপারসনের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। কেবল তা–ই নয়, নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া থেকে শুরু করে পরিবর্তনের পুরো কাজ তিনি নিজে তত্ত্বাবধান করেন।

default-image

এ নিয়ে প্রথম আলোকে স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেছিলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে আমি ব্র্যাকে আমার পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে অনেক ভেবেছি এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। ব্র্যাককে আমি ব্যক্তিনির্ভর না করে সব সময়ই সংগঠন হিসেবে দাঁড় করাতে চেয়েছি। সব সময় এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছি, যাতে আমার অবর্তমানেও ব্র্যাক তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারে। এ জন্য আমি একটি পেশাদার এবং সুশৃঙ্খল পালাবদল নিশ্চিত করতে চেয়েছি। ব্র্যাককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার কাজে যথাযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি ছিল আমার সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গর্ব ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। বিশ্ব জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান এবং বিশ্বব্যাপী দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ফজলে হাসান আবেদ ২০১৬ সালে ‘টমাস ফ্রান্সিস জুনিয়র মেডেল অব গ্লোবাল পাবলিক হেলথ’ পদক লাভ করেন। খাদ্য ও কৃষিক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ’ পান। ২০১৩ সালে হাঙ্গেরির ‘সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি’ (সিইইউ) থেকে ‘ওপেন সোসাইটি প্রাইজ’ লাভ করেন। ২০১১ সালে তিনি কাতার ফাউন্ডেশন প্রবর্তিত শিক্ষাক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘ওয়াইজ প্রাইজ’ লাভ করেন। ২০১০ সালে দারিদ্র্য বিমোচনে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্যের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি ‘নাইটহুড’ লাভ করেন।

এ ছাড়া স্যার ফজলে হাসান আবেদ ডেভিড রকফেলার ব্রিজিং লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড (২০০৮), ক্লিনটন গ্লোবাল সিটিজেনশিপ অ্যাওয়ার্ড (২০০৭), হেনরি আর ক্রাভিস প্রাইজ ইন লিডারশিপ (২০০৭), দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) প্রদত্ত আজীবন সম্মাননা (২০০৭), গেটস অ্যাওয়ার্ড ফর গ্লোবাল হেলথ (২০০৪), মানব উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ইউএনডিপি মাহবুবুল হক অ্যাওয়ার্ড (২০০৪), গ্লেইটসম্যান ফাউন্ডেশন পুরস্কার (২০০৩), দ্য শোয়াব ফাউন্ডেশন সোশ্যাল এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যাওয়ার্ড (২০০২), ওলফ পামে অ্যাওয়ার্ড (২০০১), ইউনিসেফ মরিস পেট অ্যাওয়ার্ড (১৯৯২), অ্যালানশন ফেইনস্টাইন ওয়ার্ল্ড হাঙ্গার পুরস্কার (১৯৯০), ইউনেসকো নোমা পুরস্কার (১৯৮৫) এবং র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফর কমিউনিটি লিডারশিপ (১৯৮০) লাভ করেন।
মানবিক ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ব্র্যাক বিশ্বের সর্ববৃহৎ পুরস্কার কনরাড এন হিলটন হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড (২০০৮) এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ (২০০৭) অর্জন করেছে। স্যার ফজলে হাসান আবেদের পাওয়া সর্বশেষ পুরস্কার শিক্ষা উন্নয়নে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ইদান পুরস্কার (২০১৯) এবং নেদারল্যান্ডসের নাইটহুড উপাধি।

শেষ স্বপ্ন

জীবনে অনেক সাফল্য পেলেও জীবনের শেষ সাক্ষাৎকারে একটি অপূর্ণ চাওয়ার কথা বলে গেছেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এ দেশে অদূর ভবিষ্যতে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখি। আমি আমার জীবনকালে হয়তো এটা দেখে যেতে পারব না। সম্ভবত এটি আমার জীবনের অসমাপ্ত অ্যাজেন্ডা হিসেবে থেকে যাবে। সমাজের উন্নয়ন ও পারিবারিক সুখ–শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নারী-পুরুষের সমতা অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশ অবশ্যই নারী-পুরুষের সমতার দিকে দ্রুত অগ্রসর হবে এবং সমাজ প্রগতির পথে আমাদের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।’

উদ্যোক্তা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন