সয়াবিন তেল নিয়ে সরবরাহকারীরা রীতিমতো ইঁদুর-বিড়াল খেলা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেন কারওয়ান বাজারের দোকানিরা। আজ সোমবার দুপুর ১২টার সময় বাজার ঘুরে দেখা গেল, সয়াবিন তেল বাজারে নেই বললেই চলে। তেল যেন রীতিমতো অমাবস্যার চাঁদ হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো দোকানে দু–এক লিটারের তেলের বোতল পাওয়া গেল, কিন্তু শর্ত হচ্ছে তেল নিলে সঙ্গে আরও কিছু সদাই নিতে হবে।

কারওয়ান বাজারের সোনালি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দুলাল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, এক সপ্তাহ ধরে এ পরিস্থিতি চলছে। গত সাত দিনে বড়জোর তিন দিন তেল সরবরাহ করা হয়েছে। আবার পাইকারি মূল্যও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে সরবরাহকারীরা। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১৫৯ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে ১৬০ টাকা লিটারেই বিক্রি করতে হচ্ছে দোকানিদের। এ কারণে দোকানিরা ক্রেতাদের তেলের সঙ্গে অন্যান্য সদাই নিতে বাধ্য করছেন।

গতকাল রোববার দুপুরে সর্বশেষ দুই কার্টন সয়াবিন তেল পেয়েছিলেন বলে জানান আরেক দোকানি মো. আসলাম। বলেন, গতকাল দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেট আসায় হঠাৎ করে দুই কার্টন তেল পান। সেই তেল বিক্রি হতে ১০ মিনিটও সময় লাগেনি।

রাজধানীর মধুবাগের আলী জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আলী বলেন, তাঁর দোকানে আজ কেবল এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল আছে। কয়েক দিন ধরেই সরবরাহ খুব কম। তবে খোলা সয়াবিন পর্যাপ্ত আছে বলেই তিনি জানান।

এ পরিস্থিতিতে পাড়া-মহল্লায় পলিথিন ব্যাগে ১০০, ২০০ মিলিলিটার পরিমাণ তেল বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দেশের ভোজ্যতেলের বাজার মূলত আমদানিনির্ভর। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওপর তেলের দাম অনেকটা নির্ভর করে। যদিও অর্থনীতিবিদদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে দর বাড়ার কারণে দেশের বাজারে দর যতটা বাড়ে, তার চেয়ে বেশি বাড়ে স্থানীয় বাজারের কারসাজির কারণে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরে বিশ্ববাজারে সয়াবিনের দামে অস্থিরতা শুরু হয়। আর্জেন্টিনা রপ্তানি সীমিত করার ঘোষণা এবং ইন্দোনেশিয়া পাম তেল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার পর দাম বাড়ার নতুন নতুন রেকর্ড হয়। দেশেও দাম না পেয়ে আমদানি কমিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। আবার ঈদের পরে দাম বাড়বে—এমন চিন্তা থেকে মজুতের প্রবণতাও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সয়াবিন তেলের সংকট সৃষ্টি হয়।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন