বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ধাপে ধাপে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। সবার আগে হাত দেওয়া হবে ইউনিক আইডেনটিফিকেশন নম্বর পদ্ধতি চালু করার ব্যাপারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ই–কমার্স সেল থেকে এই নম্বর দেওয়া হবে।

এরপর কেন্দ্রীয় অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুর কাজটি হতে পারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আওতায়। সে ক্ষেত্রেও আইন সংশোধনের দরকার হবে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দণ্ডবিধি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ই–কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন আইন ও ডিজিটাল কমার্স আইন প্রণয়নের কাজ করবে। ই–কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন আইন প্রণয়নের পরই গঠিত হবে ই–কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। সে ক্ষেত্রে এর নাম হবে ই–কমার্স উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

এমনও হতে পারে, কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিবর্তে আইন সংশোধন করে বরং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা হবে। আইন প্রণয়নের ব্যাপারে বৈঠক, খসড়া তৈরি, মন্ত্রিসভার অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং, সংসদ থেকে পাস—এক থেকে দেড় বছরের ঘটনা। এরপর কর্তৃপক্ষ গঠন, জনবল কাঠামো অনুমোদন, জনবল নিয়োগ ইত্যাদি কাজে যাবে আরও এক বছর।

তবে যে গ্রাহকেরা পণ্য ক্রয়ের আদেশ (অর্ডার) দিয়ে ইতিমধ্যে বিপদে আছেন এবং যে মার্চেন্টরা বাকিতে পণ্য দিয়ে আটকা পড়েছে, তাদের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের কোনো দপ্তরের আপাতত কোনো চিন্তা নেই। তাই প্রশ্ন উঠেছে, গ্রাহক-মার্চেন্ট মিলিয়ে অন্তত পাঁচ লাখ পাওনাদার যখন অনিশ্চয়তায়, তখন গ্রাহকদের পাওনা ফেরতের কী হবে? সরকারের কোনো দায় কি নেই?

ই–কমার্স খাত নিয়ে বিরাজমান অস্থিরতা থেকে উত্তরণের পথ সম্পর্কে আইনজীবী তানজীব উল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন সে ধরনের লোকেরাই, যাঁরা লোভের বশে কম দামে পণ্য কিনেছে বা কিনতে চেয়েছেন। একজন ব্যক্তির তো ১০টি মোটরসাইকেল লাগে না। কেন তিনি ১০টির অর্ডার দিলেন? ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি এখন সেই গ্রাহককেই ভোগ করতে হবে।

তানজীব উল আলম আরও বলেন, ই–কমার্স ভার্চ্যুয়াল মুদির দোকান। মুদির দোকানে নজরদারি করা সরকারের কাজ নয়। তবে অভিযোগ ওঠার পর সরকার কিন্তু চুপ করে বসে থাকেনি। শুধু ই–কমার্স নয়, কোনো বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের পতনের ব্যাপারে সরকার এগিয়ে এসেছে—বিশ্বের কোথাও এমন উদাহরণ নেই।

ইভ্যালি এখন গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে ৫৪৩ কোটি টাকার দেনাদার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ইভ্যালি গত মাসে যে হিসাব দিয়েছে, তাতে তাদের কাছে ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪১ জন গ্রাহকের ৩১১ কোটি টাকা পাওনার কথা বলা হয়েছে। আর মার্চেন্টরা (সংখ্যা অজানা) ইভ্যালির কাছে পায় ২০৬ কোটি টাকা।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সহযোগী অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ইভ্যালি, ই–অরেঞ্জ বা ধামাকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড একধরনের রাষ্ট্রীয় অপরাধ। অথচ সব সংস্থাই এখন দায় এড়াচ্ছে। কে দায়ী নয়—এটা প্রমাণেই সবাই যেন ব্যস্ত এখন। অথচ চোখের সামনেই সব হয়েছে। অনেকটা কর ফাঁকির মতো। সুযোগ দিয়ে দিয়ে একটা পর্যায়ে গিয়ে বলা হলো, কর ফাঁকি হয়েছে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন