বিএসইসির আজকের সভায় ডিএসইর সিটিওকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ছুটিতে থাকতে হবে।
মোহাম্মদ রেজাউল করিম, নির্বাহী পরিচালক, বিএসইসি

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আজ সোমবারের ৮৪৩তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিএসইসির আজকের সভায় ডিএসইর সিটিওকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ছুটিতে থাকতে হবে। এ বিষয়ে আদেশ জারি করে তা ডিএসইতে পাঠানো হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জানা গেছে, সিটিওকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ছাড়াও ডিএসইর তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে দ্রুত প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বর্তমানে ডিএসইর সিটিওর দায়িত্বে রয়েছেন মো. জিয়াউল করিম। ডিএসইর ওয়েবসাইটে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যে ক্রমতালিকা রয়েছে, সেখানে দ্বিতীয় স্থানে আছে সিটিওর নাম।

গত রোববার দাম সমন্বয়ের জটিলতার কারণে দেড় ঘণ্টা বিলম্বে লেনদেন শুরু হয় ডিএসইতে। লেনদেনের আগেই এ জটিলতা তৈরি হলেও বিলম্বে লেনদেন শুরুর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

গত সোমবার (২৪ অক্টোবর) কারিগরি ত্রুটির কারণে ডিএসইতে লেনদেন বিঘ্নের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ডিএসইর কারিগরি ত্রুটির কারণ ও সংস্থাটির প্রযুক্তিব্যবস্থার কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয় বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসানকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে, বিএসইসির উপপরিচালক মোহাম্মদ ওরাইসুল হাসান, সিসিবিএলের মহাব্যবস্থাপক ইমাম হোসাইন, সিডিবিএলের মহাব্যবস্থাপক মঈনুল হক ও বিএসইসির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ দস্তগীর হোসাইনকে। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।

এরপর গতকাল রোববার দাম সমন্বয়ের জটিলতার কারণে দেড় ঘণ্টা বিলম্বে লেনদেন শুরু হয় ডিএসইতে। লেনদেনের আগেই এ জটিলতা তৈরি হলেও বিলম্বে লেনদেন শুরুর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। বিনিয়োগকারীদের পক্ষে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস থেকে ক্রয় বা বিক্রয়াদেশ দিতে গিয়ে দেখা যায়, লেনদেন যন্ত্রে কোনো আদেশ দেওয়া যাচ্ছে না। পরে বিষয়টি ডিএসইর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। ফলে ওই দিন লেনদেন করতে গিয়ে বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিরা ভোগান্তিতে পড়েন।
বিষয়টি নিয়ে আজ সোমবার বিএসইসির কমিশন সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় আলোচনার পর ডিএসইর সিটিওকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।