খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ের সময় এখনই

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি। চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে, কমে যাচ্ছে বেতন–ভাতাও। বিভিন্ন কাজও কমে গেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। দিন যত গড়াচ্ছে, সংকট তত বাড়ছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) বলছে, লকডাউনের কারণে দেশে নতুন করে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে গেছে। আজ আমাদের আলোচনা অন্য বিষয় নিয়ে। তবে প্রাসঙ্গিক।

এমন মহামারির সময়ে আপনার আর্থিক ব্যবস্থাপনা কেমন হলে ভালো হয়। কেমন কমতে পারে খরচের হাত ও বাড়তে পারে সঞ্চয়ের অভ্যাস। এ নিয়ে বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ ব্যাংকাররা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। এসবই তুলে ধরা হবে আজকে।

বাজেট তৈরি করুন

একটি দেশের যেমন বাজেট থাকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঠিক আপনিও তেমন একটি বাজেট করে ফেলুন। সেটা মৌখিক নয়, লিখিত আকারেই। প্রতি মাসে কী পরিমাণ খরচ না করলেই নয়, এমন একটি তালিকাও করে ফেলুন। ভাড়া বাসায় থাকলে বাড়ির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে কমিয়ে আনতে পারেন বাসাভাড়া। কারণ, আশপাশে টু–লেট এর ছড়াছড়ি। ভাড়াও কমছে। আপাতত কোনো শৌখিন জিনিস কিনে টাকা খরচ না করাই ভালো। জীবনযাত্রার বিভিন্ন সামগ্রী কেনাও কমিয়ে দেন। একসঙ্গে অনেক পণ্য কিনে টাকা আটকে রাখার প্রয়োজন নেই, কারণ এমন পরিস্থিতিতে পণ্যের দাম সহজেই বাড়ে না। সামনে আরও খারাপ দিন আসতেই পারে। খুব জরুরি না হলে বাসার বাইরে খাওয়ায় আপাতত লাগাম দিতে পারেন। আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হলে ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলুন। সব মিলিয়ে সব খরচই অল্প অল্প করে কমিয়ে ফেলুন। এতে প্রতি মাসে কিছু টাকা সাশ্রয় হবে। সেই টাকা কোথাও বিনিয়োগ করতে হবে অথবা সঞ্চয় করতে হবে।

এই সময়ে খরচ কীভাবে কমানো যেতে পারে, বিবিসির একটি প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, খরচ কমাতে প্রযুক্তির ব্যবহার করে কেনাকাটা করা যায়, এতে মূল্যের ফারাক সহজে বোঝা যায়। করোনার কারণে জিমনেসিয়াম, ক্লাব ও বিনোদন কেন্দ্রে যাওয়া বন্ধ। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ বাতিল করতে পারেন। আগের যেসব আর্থিক পাওনা আছে, তা আদায়ের পদক্ষেপ নিন। বিভিন্ন পরিষেবা বিল ও খরচ কমিয়ে আনুন। নিয়মিত যে সঞ্চয় করেন, তা পুনর্বিবেচনা করেন। আরও সঞ্চয় শুরু করেন।

আরও সঞ্চয় করুন

করোনাভাইরাস শুরুর পর বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যক্তিগত সঞ্চয় বাড়ছে। কারণ হোটেল, ক্লাবে যাওয়া অনেকটাই কমে গেছে। বিলাসী জীবন ও জীবনযাত্রায় অনেকটা ছেদ পড়েছে। ভবিষ্যতের চিন্তা করে কৃচ্ছ্রসাধন করছেন অনেকেই। তবে আমরা কতটা কৃচ্ছ্রসাধন করছি, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ, ব্যাংকে সাধারণ মানুষের আমানত কমছে, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগও নিম্নমুখী।

তবে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটও ভিন্ন। যেমন গত এপ্রিলে আমেরিকায় ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিস ১৯৬০ সাল থেকে থেকে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের তথ্য প্রকাশ করছে। এপ্রিলের সঞ্চয়ের হার এর মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশটি করোনাভাইরাসের কারণে বেকারদের বিশেষ প্রণোদনা ভাতা দিয়েছে। এ কারণে হঠাৎ করে ব্যক্তিগত সঞ্চয় বেড়ে গেছে।

তবে যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি ভিন্ন। নতুন করে কোনো প্রণোদনা ভাতা না দিলেও দেশটিতে পরিবারপ্রতি সঞ্চয় বাড়ছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে গত মে মাসে পরিবারপ্রতি সঞ্চয় হিসাবে আমানত বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫৬০ কোটি ইউরো। এপ্রিলে যা ছিল ১ হাজার ৬৭০ কোটি ইউরো ও মার্চে ১ হাজার ৪৩০ কোটি ইউরো। যদিও সঞ্চয় থেকে মুনাফা অনেক কমে গেছে।

উন্নত দেশগুলো সঞ্চয় বাড়াতে পারলে আমরা কেন পারব না। এখনই সঞ্চয় ভেঙে না খেয়ে বরং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলি। কারণ, সামনে আরও খারাপ দিন আসতে পারে। আমাদের দেশে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য যে সুযোগ আছে তাই কাজে লাগাতে পারি। গত এপ্রিল থেকে ব্যাংক আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ হয়ে গেছে, তাই অন্য কিছু ভাবতে হবে। তবে কোনোভাবেই বেশি মুনাফার আশায় ভুল জায়গায় টাকা রাখা যাবে না। এতে পুরো টাকাই আটকে যেতে পারে।

এখনো সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফার সুযোগ আছে। বিভিন্ন ব্যাংকের সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ডেও বিনিয়োগ করা যায়, এতে ভালো মুনাফার পাশাপাশি রয়েছে কর ছাড় সুবিধা। আবার ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদি স্কিমে এখনো বেশি সুদ পাওয়া যাচ্ছে। তাই জমানো টাকায় কী করবেন, সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। তবে আবারও বলি, খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ের এখনই সময়।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী শিক্ষকতার সঙ্গেও যুক্ত। তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম মহামারিতে একজন ব্যক্তি বা পরিবারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কেমন হওয়া উচিত। এ নিয়ে আরফান আলীও বলেন, এখন অনেকের আয় কমে গেছে। তাই সঞ্চয় করা কঠিন। তবে এর মধ্যেও খরচ কমিয়ে সঞ্চয় করা উচিত। কারণ, ভবিষ্যতে আরও খারাপ সময় আসতে পারে। মানুষ ভালো মুনাফার জন্য সরকারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়পত্র কিনতে পারে। ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্কিমেও টাকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন