রেহমান সোবহানের বক্তব্যের একপর্যায়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংসদ রাশেদ খান মেনন ও আলী আশরাফকে প্রশ্ন করেন, তাঁরা সংসদে বাজেট আলোচনায় কত মিনিট সময় পান? এ সময়ে রাশেদ খান মেনন জানান, ১০ মিনিটের মতো সময় পান।

সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, সামাজিক সুরক্ষার আওতায় অভীষ্ট মানুষেরা বাদ পড়ে যাচ্ছে, অন্যরা ঢুকে পড়েছে। আর কোভিডকালে নতুন গরিব বেড়েছে। নতুন গরিব ও পুরোনো গরিব—এই দারিদ্র্যের পরিসংখ্যান এক ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টি করে। মানুষ কতটা ঝুঁকিতে আছে, সেটাই বড় বিবেচ্য বিষয়। তিনি গরিব মানুষ ও দরিদ্রপ্রবণ এলাকা বিবেচনায় গরিব মানুষের জন্য বিমা সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

বাজেট নাটক কি না—এই প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বাজেট নাটক কি না, জানি না। একটি স্টেজ থাকে, সেখানে গিয়ে আমরা হাজির হই। বাজেট নিয়ে সংসদে আলোচনা অর্থহীন। আলোচনা করতে হয় বলেই করি। ১০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকলে কী হয়, একটি পয়েন্ট আলোচনা করতেই ১০ মিনিট চলে যায়। প্রান্তিক মানুষের কথা বাজেটে না এলে বাজেট অর্থহীন।’ তিনি মনে করেন, বাজেট অনেকটা আমলানির্ভর হয়ে গেছে।

সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও সাংসদ আলী আশরাফ মনে করেন, তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা করেই বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা উচিত। তিনি বলেন, ‘রাশেদ খান মেনন বললেন, বাজেট আমলানির্ভর হয়ে গেছে। এটি যদি হয়, তাহলে তা ভালো লক্ষণ নয়।’

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্পর্কে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শুভংকরের ফাঁকি আছে। এগুলো হলো বরাদ্দের চেয়ে বেশি দেখানো হয়; যত টাকা পাওয়ার কথা, তা দেওয়া হয় না এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা পান না।

অনলাইনে আয়োজিত সংলাপে সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেখানে কোভিডের কারণে কর্মসংস্থানে প্রভাববিষয়ক এক সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে চাকরি হারানোর চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, করোনার কারণে ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তাঁরা গড়ে ৯৫ দিনের মতো কাজ পাননি। পরে তাঁদের অনেকেই কাজ পেয়েছেন। তবে আয় কমেছে। এর পরিমাণ গড়ে ১২ শতাংশ। করোনার কারণে সেবা খাতে চাকরি কমেছে। আর কৃষিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১৬ জেলার ২৬০০ খানার ওপর এই জরিপ চালানো হয়।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ পরামর্শ দেন, করোনার সময় যেসব প্রতিষ্ঠান কোনো কর্মী ছাঁটাই করবে না, তারা আড়াই শতাংশ কর ছাড় পাবে। আর যারা ১০ শতাংশ নতুন কর্মী নিয়োগ দেবে, তারা আরও কর ছাড় পাবে। সেই ব্যবস্থা করা গেলে কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক লায়লা আশরাফুন বলেন, মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিতে হবে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আশিকুর রহমান মনে করেন, এ দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোয় শহরের গরিবদের উপেক্ষা করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। আরও বক্তব্য দেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের বরিশাল শাখার নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।