কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা
কর্মীদের বেতন বাড়াল ৫ ব্যাংক
দেশের আরও কয়েকটি ব্যাংক শিগগিরই নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়াতে শুরু করেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। ইতিমধ্যে ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও কয়েকটি ব্যাংকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
যেসব ব্যাংক মার্চ থেকে নতুন বেতন-ভাতা কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এস আলম গ্রুপ। এ পাঁচটি ব্যাংক নতুন বেতন-ভাতা কার্যকর করায় অন্য ব্যাংকগুলোও এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। দেশে বেসরকারি খাতের ৪৩ ব্যাংক ও বিদেশি খাতের ৯ ব্যাংককে নতুন এ নির্দেশনা কার্যকর করতে হবে।
আগামী ১ মার্চ থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে ক্ষেত্রে মার্চ থেকেই নতুন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাবেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ, দেশের বেশির ভাগ ব্যাংক মাস শেষ হওয়ার আগেই কর্মীদের বেতন দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া বেতন-ভাতা অনুযায়ী, শিক্ষানবিশকালের জন্য জেনারেল বা সাধারণ ব্যাংকিং শাখার কর্মকর্তাদের ন্যূনতম বেতন-ভাতা হবে ২৮ হাজার টাকা এবং ক্যাশ শাখার কর্মকর্তাদের ন্যূনতম বেতন-ভাতা হবে ২৬ হাজার টাকা। আর শিক্ষানবিশকাল শেষে জেনারেল শাখার কর্মকর্তাদের সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা হবে ৩৯ হাজার এবং ক্যাশ শাখার কর্মকর্তাদের সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা হবে ৩৬ হাজার টাকা। একইভাবে ওপরের সারির কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাও পুনর্নির্ধারণ করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মচারী বা চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়া অফিস সহায়কদের সর্বনিম্ন বেতন-ভাতাও ঠিক করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ সব বিভাগীয় শহরের জন্য বেতন-ভাতা ঠিক করা হয়েছে ২৪ হাজার টাকা, জেলা শহরের জন্য ২১ হাজার টাকা ও উপজেলার জন্য ১৮ হাজার টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানায় ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। ব্যাংক মালিক ও শীর্ষ নির্বাহীদের আপত্তি সত্ত্বেও জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান নেয়।
এদিকে, নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নতুন কাঠামোতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টের প্রতি মাসের বেতন-ভাতা ২ লাখ ১৩ হাজার থেকে বেড়ে হবে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের বেতন ১ লাখ ৭৬ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার, ভাইস প্রেসিডেন্টের বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্টের বেতন ১ লাখ ৩৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্টের বেতন হবে ১ লাখ ২২ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার, ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্টের বেতন ১ লাখ ৫ হাজার থেকে বেড়ে এক লাখ ১৯ হাজার টাকা হয়েছে। এ ছাড়া সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারের বেতন ৮৯ হাজার থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ১১ হাজার, প্রিন্সিপাল অফিসারের বেতন ৭৫ হাজার থেকে বেড়ে হবে ৮৬ হাজার টাকা, সিনিয়র অফিসারের বেতন ৬৩ হাজার থেকে বেড়ে হবে ৭০ হাজার ও অফিসারের বেতন হবে ৪৯ হাজার থেকে বেড়ে হবে ৫৯ হাজার টাকা।
এর বাইরে প্রবেশনারি অফিসারের বেতন ৪০ হাজার থেকে বেড়ে হবে ৪৮ হাজার টাকা, জুনিয়র অফিসারের ৪০ হাজার থেকে বেড়ে ৪৭ হাজার টাকা, ট্রেইনি জুনিয়র অফিসারের বেতন ২২ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসারের বেতন ৩৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩৯ হাজার টাকা হবে। ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসারের বেতন ২২ হাজার থেকে বেড়ে ২৮ হাজার টাকা, ক্যাশ শাখার ক্ষেত্রে ২২ হাজার থেকে বেড়ে ২৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে চালক, নিরাপত্তা কর্মী ও চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের বেতন বাড়িয়েছে ব্যাংকটি।
এ বিষয়ে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি জাফর আলম প্রথম আলোকে বলেন, আমরা কর্মীদের বেতন সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যা মার্চ থেকে কার্যকর হবে।