ঋণ পরিশোধে তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও কিছু বাড়তি সময় অর্থাৎ গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যায়। কিছু শর্ত অবশ্য থাকে। পারতপক্ষে এগুলো সহজই হয়। কঠিন শর্তের হলে ঋণ নেওয়া থেকে আমরা সাধারণত বিরত থাকি।

এবার উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, হচ্ছে এবং আরও হবে। আমরা গত রোববার চিঠি পাঠিয়েছি আইএমএফকে। পরের দিন সফররত জাইকা সভাপতি আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাঁকেও অনুরোধ করা হয়েছে বাজেট-সহায়তা দিতে।

লেনদেনের ভারসাম্য ও বাজেট-সহায়তা বাবদ ঋণ পেতে একটা আনুষ্ঠানিক আলোচনা যাতে শুরু করে, সে জন্য আইএমএফকে অনুরোধ করা হয়। আশা করছি আইএমএফ এ ব্যাপারে একটা মিশন নিয়ে আসবে। সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারের দপ্তরগুলোর সঙ্গে কথা বলবে। ঋণ পেতে আইএমএফের কিছু শর্তও থাকে। ভ্যাট আইন যে করা হয়েছে, তা তো আইএমএফেরই শর্তের ফল। এটা তো ভালো হয়েছে।

এরপর অনেক প্রক্রিয়া আছে। চিঠিতে আমরা ঋণের অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করিনি। কবে নাগাদ এবং কত ঋণ পাওয়া যাবে, তা-ও নির্ভর করবে তাদেরই ওপর। যাদের কাছে অর্থ আছে, তারা চিন্তাভাবনা করেই ঋণ দেবে—এটাই স্বাভাবিক।

বাংলাদেশ আইএমএফের পুরোনো সদস্য। সব সদস্যই ঋণ নেয় এ সংস্থা থেকে। আমরা আগেও বহুবার আইএমএফ থেকে ঋণ নিয়েছি। সময়মতো কিস্তি পরিশোধে বাংলাদেশের সুনাম আছে। বলা যায়, বাংলাদেশ আইএমএফের ভালো গ্রাহক।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা এখন যেটুকু আছে, কোনোভাবেই ঝামেলায় নেই আমরা। আমদানি বেড়েছে, প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধিও একটু নেতিবাচক। তার পরও বলব সমস্যা কেটে যাবে। আগামী বছর থেকে কমপক্ষে প্রবাসী আয় আসবে ২ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার।

গত বছর হয় না হয় না করেও ২ হাজার ৩০০ ডলার এসেছিল, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এখন যা প্রবাসী আয় পাচ্ছি, তা-ও যথেষ্ট। আমার বিশ্বাস, এক প্রবাসী আয় দিয়েই চলতি হিসাবের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন