default-image

বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান বাংলা ট্রাকের দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচার তদন্তে তিন সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের অভিযোগ ওঠায় অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী যৌথ তদন্ত দল গঠনের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তদন্ত দলটি গঠিত হবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের অভিযোগ ওঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সম্প্রতি যৌথ তদন্ত দল গঠনের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের’ কথা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী, সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিএফআইইউ যৌথ তদন্ত দল গঠন করবে। তদন্ত দল বিএফআইইউকে তদন্তের বিষয়গুলো অবহিত করবে। আর অপরাধগুলোর বিচার হবে ফৌজদারি আইনের অধীনে বিশেষ বিচারকের আদালতে। আইনের ৯ (১) ধারার ক্ষমতাবলে অর্থমন্ত্রী তদন্ত দল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বাংলা ট্র্যাক পাওয়ার ইউনিট-১–এর চেয়ারম্যান ও তাঁর দুই ছেলের নানাবিধ দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এসেছে। এর সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিএফআইইউয়ের প্রস্তাবের আলোকে একাধিক তদন্তকারী সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ তদন্তকারী দল গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তদন্ত দল গঠনে বেশ কিছু পথও বাতলে দিয়েছে। বলেছে, যৌথ তদন্ত দল গঠন করা যেতে পারে দুদক, এনবিআর ও সিআইডির কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে। তদন্ত দলের নেতৃত্বে থাকতে পারে দুদক। এ ক্ষেত্রে যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট সব আইনকানুন ও বিধিবিধান। তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

এর আগে বিএফআইইউয়ের বিশেষ তদন্তে বেরিয়ে আসে, বাংলা ট্র্যাক গ্রুপ সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নতুন বা ভাড়া যন্ত্রপাতি দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কথা থাকলেও তারা পুরোনো যন্ত্রপাতি আমদানি করে তা দিয়েই চালাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্র। আবার এসব যন্ত্রপাতি কেনা হয় দুবাই ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক দুই প্রতিষ্ঠান থেকে, যেগুলোর মালিক আবার তাঁর এক ছেলে। এভাবেই অর্থ পাচার করে বাংলা ট্র্যাক। এর পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ তদন্ত দল গঠনের প্রস্তাব দিয়ে সরকারকে চিঠি দেয় বিএফআইইউ। যৌথ তদন্তে সরকার থেকেও ইতিবাচক মতামত আসে।

বিএফআইইউর কর্মকর্তারা এ নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি কবে নাগাদ যৌথ তদন্ত দল গঠিত হবে, তা–ও জানাতে চাননি।

বহুল আলোচিত পানামা পেপারসে ২০১৬ সালে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অর্থ পাচারকারী ও কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে বাংলা ট্র্যাক গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হকসহ তাঁর দুই ছেলে তারেক ইকরামুল হক ও নাজিম আসাদুল হকের নাম ছিল। এর মধ্যে আমিনুল হক প্রাইম ফাইন্যান্সের পরিচালক ও তারেক ইকরামুল হক প্রাইম ব্যাংকের পরিচালক। এখন দেশে পিতা–পুত্র তিনজনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারে জড়ানোর তদন্ত হচ্ছে।

এদিকে দেশীয় ব্যাংকগুলো সব মিলিয়ে বাংলা ট্র্যাকের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণই খেলাপি হয়ে পড়েছে। আদালতের আদেশে ‘খেলাপিমুক্ত’ থেকে নতুন করে ঋণও নিয়েছে বাংলা ট্র্যাক।

বাংলা ট্র্যাক গ্রুপ ২০০৪ সাল থেকে জ্বালানি, বিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাণ ও ভাড়া, টেলিযোগাযোগ, খাদ্যপণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত।

ইতিপূর্বে বাংলা ট্র্যাকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি নির্দিষ্ট ধরনের ইঞ্জিনই দরকার ছিল এবং ওই কাজে বাজারে শুধু ব্যবহৃত ইঞ্জিনই পাওয়া যায়। এটি এই খাতে স্বীকৃত একটি প্রক্রিয়া। ইঞ্জিন ক্রয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারের সব সংশ্লিষ্ট দপ্তর উল্লিখিত ইঞ্জিনগুলোর উৎস এবং এর মূল্যের পাশাপাশি এই পূর্ব ব্যবহৃত বিষয়টি সম্পর্কেও অবহিত ছিল। অতএব এসব বিষয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন