পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির প্রবণতা নিম্নগামী। তবে আমি এখনো সন্তুষ্ট নই। ভালো কথা হলো, মজুরি বৃদ্ধির প্রবণতাও ঊর্ধ্বমুখী।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার আমনের ভালো ফলন হবে। মাঠে ফসল হলুদ হয়ে আছে, যা দেখতে চমৎকার লাগছে। এটি আমাদের জন্য বেশ ভালো খবর।’

পরিকল্পনামন্ত্রীর মতে, মূল্যস্ফীতিকে দাবিয়ে রাখার জন্য সরবরাহব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে লাখ লাখ টন ফসল কাটার অপেক্ষায় আছে। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, সবজি উৎপাদন ছয় গুণ বেড়েছে। এখন ড্রাগন ফল উৎপাদিত হচ্ছে, আগে হতো না। এখন নতুন নতুন ফল হচ্ছে, যা বেশ প্রোটিনসমৃদ্ধ। এসবই মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আঘাত করবে।

এম এ মান্নান আরও বলেন, ‘আমাদের সরবরাহব্যবস্থা বেশ চমৎকার। নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি কমবে। এরপর ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও কমবে। তবে মার্চ মাসে গিয়ে মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতার গতি কমে যাবে।’

এ বছর দেশে মূল্যস্ফীতি বেশ আলোচিত বিষয়। গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে পেট্রল, অকটেন, ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সব জিনিসের দাম বেড়ে যায়। পরিবহনভাড়াও বৃদ্ধি পায়। এসব কারণে আগস্ট মাসে উচ্চ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা করেছিলেন অর্থনীতিবিদেরা। বিবিএসের হিসাবে, গত অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশে নেমেছে। এর আড়ে আগস্ট মাসে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়, যা ১১ বছর ৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরে সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১০ শতাংশে নেমেছে। এর আগে ২০১১ সালের মে মাসে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ২০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। ২০১১ সালের মে মাসের পর মূল্যস্ফীতি আরও কখনোই ৯ শতাংশের বেশি হয়নি।

‘৭ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি হতে পারে’

অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে আসছে বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি নীতির কারণে আমদানি কমেছে।

সার্বিকভাবে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বেশি। চলতি হিসাবে ঘাটতি কমেছে। তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কিছুটা বেড়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনার মধ্যেও আমাদের অর্থনীতি ভালো করেছে। চলতি ২০২২–২৩ অর্থবছরেও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে।’

উল্লেখ্য, দেশে গত ২০২১–২২ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।

আন্ডার ইনভয়েস ও ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে অর্থ পাচার–সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে বিএফআইইউ কাজ করছে। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রমাণ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বলা যাবে না, কারা পাচার করছেন। ধৈর্য ধরতে হবে।

একনেক–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম, পরিকল্পনাসচিব মামুন আল রশীদ প্রমুখ।