টিসিবি বলছে, বাজারে এখন প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকায় ও মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট দানার মসুর ডালের দাম রাখা হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪৫ টাকা।

বাজারে খোলা মসুর ডালের পাশাপাশি সুপারশপ বা বড় দোকানে প্যাকেটজাত ডাল পাওয়া যায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

আমদানি খরচ বেশি পড়ায় বাজারে দাম সমন্বয় হচ্ছে। এখন ডলারের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ব্যাংকগুলো অনেক যাচাই-বাছাই করে ঋণপত্র খুলছে।
জাহিদ হোসেন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতি

আমদানিকারকেরা বলছেন, ঋণপত্র (এলসি) খোলার ব্যয় বাড়ার কারণে বাজারে ডালের দাম বেড়েছে। এখন নতুন করে দাম বাড়লে সেটা ডলারের দামের কারণেই বেড়েছে। তবে তাতে বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমদানি খরচ বেশি পড়ায় বাজারে দাম সমন্বয় হচ্ছে। এখন ডলারের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ব্যাংকগুলো অনেক যাচাই-বাছাই করে ঋণপত্র খুলছে। নিত্যপণের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি থেকে বের হয়ে এলে ব্যবসায়ীদের আমদানি চালু রাখতে সুবিধা হবে।’

খুচরা বাজারে অন্য ডালগুলোর মধ্যে মানভেদে প্রতি কেজি মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। এই ডালের দাম গত এক মাসে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। খেসারি ডালের দামও বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা। এই ডালের কেজি এখন ৮৫ থেকে ৯০ টাকা।

‘শৌখিন ডাল’খ্যাত মাষকলাই এখন ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ছোলার ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার আশপাশে। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুটি ডাল কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

তবে গত কিছুদিনে মুগ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ডাল হিসেবে পরিচিত অ্যাংকর ডালের দাম বাড়েনি। মানভেদে প্রতি কেজি মুগ ৯০ থেকে ১৪০ টাকা আর অ্যাংকর ডাল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাব অনুযায়ী গত এক বছরে মুগডালের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে। বাজারের সবচেয়ে সস্তা ডাল অ্যাংকর। এটির দাম এক বছরে বেড়েছে ৫০ শতাংশ। বুটের ডালের মতো দেখতে এ ডাল আমদানি করে বাজারে ছাড়া হয়। হোটেল-রেস্তোরাঁয় সকালের নাশতায় এ ডাল বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়া পেঁয়াজু ও বেগুনির উপকরণ বেসন তৈরি হয় অ্যাংকর ডাল থেকে।

ডালের মতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে, উল্লেখ করে নিউমার্কেট বই বিক্রেতা আনারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের আয় সীমিত। রোজ মাছ-মাংস খাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। ডাল-ভাত খেতেও খরচ কম না। রেস্তোরাঁয় এক বেলা ডাল–ভাত আর আলুভর্তা দিয়ে খেলেও ৫০ টাকা খরচ হয়ে যায়।’

এদিকে বাজারে দাম বাড়তি থাকলেও ডাল আমদানি কমেছে। চলতি ২০২২–২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গম, চিনি, মসুর ও মটর ডাল—বড় এই চার পণ্যের মধ্যে আমদানি সবচেয়ে বেশি কমেছে মটরের। পণ্যটির আমদানি কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

গত ২০২১–২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মটর ডাল আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৫১ হাজার টন। এবারে আমদানি হয়েছে ৮২ হাজার টন। একই সময়ে মসুর ডালের আমদানিও কমেছে ৩১ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যেখানে সোয়া লাখ টন আমদানি হয়েছিল, সেখানে এবার একই সময়ে হয়েছে ৮৬ হাজার টন। চাহিদানুযায়ী উৎপাদন না হওয়ায় দেশে বছরে ১৩-১৪ লাখ টন ডাল আমদানি করতে হয়।