এই সময়েও টমেটোর দাম এত বেশি কেন

রাজধানীর কৃষি মার্কেট থেকে আজ ছবিটি তোলাছবি - প্রথম আলো

দেশে টমেটোর অন্যতম উৎপাদনস্থল রাজশাহী জেলা। আজ রাজশাহী নগরের বিনোদপুর বাজারে ভালো মানের প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে। রাজধানী ঢাকার চার বাজারে একই মানের টমেটো বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

বিক্রেতারা বলছেন, অন্যান্য বছর শীত মৌসুমের এ সময়ে টমেটোর দাম আরও কম থাকে। কিন্তু এবার টমেটোর দাম অনেকটাই বেশি। ভরা মৌসুমে টমেটোর সরবরাহ কম থাকায় দাম তুলনামূলক চড়া।

আজ রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখেন এই প্রতিবেদক।

দেখা গেছে, রাজধানীর বাজারে পাকা (টক ও মিষ্টি) ও কাঁচা (সবুজ)—উভয় ধরনের টমেটো বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কৃষি মার্কেট, টাউন হল ও তালতলা বাজারে বড় আকার ও ভালো মানের পাকা টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর আকার ছোট হলে বা মান কিছুটা কম হলে দাম রাখা হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। আর কাঁচা টমেটোর কেজি ৫০ টাকা।

সাধারণত রাজধানীর অন্যান্য বাজারের তুলনায় কারওয়ান বাজারে সবজির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা কম থাকে। আজ সকালে কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি পাকা টমেটো ৯০ থেকে ১১০ টাকা ও কাঁচা টমেটো ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ অন্যান্য বাজারের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা কম দামে এখানে টমেটো বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা সবজি বিক্রেতা সুলতান শেখ বলেন, ‘টমেটো আমরা ক্যারেট আকারে কিনি। প্রতি ক্যারেটে প্রায় ২২ কেজি টমেটো থাকে। গতকাল পাইকারি থেকে প্রতি ক্যারেট টমেটো ২ হাজার ২০০ টাকা দরে কিনেছি। কিছুটা নিম্ন মানের টমেটোর ক্যারেটও ২ হাজার টাকার কাছাকাছি। এর মধ্যে এক কেজির মতো টমেটো নষ্ট পাওয়া যায়। কেজিতে অন্যান্য খরচ আছে ৫ টাকা। ফলে সব মিলিয়ে ১২০ টাকার নিচে ভালো মানের টমেটো বিক্রি করা যায় না।’

সুলতান শেখ জানান, গত বছর জানুয়ারির শুরুতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে টমেটো বিক্রি করছেন; এবার তা ১০০ টাকার ওপরে।

অবশ্য ঢাকায় ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে টমেটো বিক্রি হলেও কৃষকেরা দাম পাচ্ছেন এর অর্ধেকের কম। রাজশাহীর পবা উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের টমেটোচাষি সাব্বির হোসেন জানান, তিনি আজ সকালে প্রতি কেজি ভালো মানের টমেটো বিক্রি করেছেন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। এই টমেটো রাজশাহীর বিনোদপুর ও কোর্ট স্টেশন বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

টমেটোর দাম বেশি কেন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শীতকালে টমেটো চাষের উপযুক্ত সময় হচ্ছে কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহ; অর্থাৎ অক্টোবরের শেষ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। তবে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় নভেম্বরের শেষ দিকে। আগাম টমেটো চাষের জন্য রোপণের সময় এগিয়ে আনা হয়।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আবদুল মজিদ বলেন, গত বছর নভেম্বরের শেষ দিকে অতিবৃষ্টির কারণে টমেটো আবাদের সময় কিছুটা পিছিয়ে গেছে। সে কারণে বাজারে মৌসুমের টমেটোর সরবরাহ কম। এখন যেসব টমেটো বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো মূলত আগাম চাষ করা। সেগুলো পুরোপুরি পাকেনি।

অন্যদিকে বর্তমানে তীব্র শীতের কারণে কৃষকেরা পাকা টমেটো উত্তোলনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। সরবরাহ কম থাকার এটিও কারণ। তবে জানুয়ারির শেষ নাগাদ বাজারে টমেটোর সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসতে পারে জানান কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকেরা।