আরএফএল গ্রুপ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮৩ লাখ ডলারের বাইসাইকেল রপ্তানি করে। এরপরে করোনাকালেও তাদের বাইসাইকেল রপ্তনিজ বাড়ে। তারা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের বাইসাইকেল রপ্তানি করে, যা পরবর্তী ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

জানতে চাইলে আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আর এন পাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনাকালে ইউরোপ–আমেরিকায় সাইকেলের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। চীনের সঙ্গে সমস্যা হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা নতুন উৎপাদক খুঁজছেন। সেই সুযোগটি আমরা কাজে লাগাতে চাই। ইতিমধ্যে ওয়ালমার্টের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। জুনের মধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে আমাদের কারখানায় উৎপাদিত বাইসাইকেল মিলবে তাদের স্টোরে।’

আর এন পাল আরও বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা দেশীয় সাইকেলের বাজারের ৮০ শতাংশ দখল করতে চাই। বর্তমানে হবিগঞ্জে বছরে ৮ লাখ ও রংপুরের গঙ্গাছড়ার কারখানায় ৩ লাখ সাইকেল উৎপাদনের সক্ষমতা আছে।’

একসময় বাইসাইকেলের বাজারটি ছিল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। বিদেশ থেকে সম্পূর্ণ সাইকেল বা যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করে বাজারে ছাড়তেন এ দেশের ব্যবসায়ীরা। তবে সময় বদলেছে। বর্তমানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশেই বাইসাইকেল উৎপাদন করছে। তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই রপ্তানি বাজারের দিকে বেশি নজর দেওয়ায় এখনো দেশীয় চাহিদার ৬০ শতাংশ বাইসাইকেল আমদানি হয়ে থাকে। দেশে বাইসাইকেলের বাজার প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বলে জানান কয়েকজন ব্যবসায়ী।

default-image

দেশে বাইসাইকেল রপ্তানির পথপ্রদর্শক মেঘনা গ্রুপ। ১৯৯৬ সালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে সরকারি বাইসাইকেল তৈরির প্রতিষ্ঠান কিনে নেয় তারা। বর্তমানে ট্রান্স ওয়ার্ল্ড বাইসাইকেল, ইউনিগ্লোরি ও মাহিন সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে তিনটি ইউনিটে সাইকেল উৎপাদন করছে তারা।

এরপর ১৯৯৮ সালে কারখানা করে মালয়েশিয়াভিত্তিক আলিটা বিডি। চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) করা হয় শতভাগ রপ্তানিমুখী এই কারখানা। তাদের পরে তাইওয়ানভিত্তিক ‘করভো’ একই ইপিজেডে স্থানীয় বাজার ও রপ্তানির উদ্দেশ্যে করে আরেকটি কারখানা।

উদ্যোক্তারা বলছেন, নানাবিধ কারণে ইউরোপের ক্রেতারা বর্তমানে কম্বোডিয়া, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কা থেকে বাইসাইকেল কিনতে আগ্রহী। এ সুযোগটি পুরোপুরি নিতে হলে রপ্তানিকারকদের বন্ড সুবিধাসহ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। একই সঙ্গে বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য সংযোগশিল্পের বিকাশে নীতিসহায়তা প্রদানের উদ্যোগও নিতে হবে। কারণ, সংযোগশিল্প শক্তিশালী না হওয়ায় এই শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে আরএফএল শুরু থেকেই বাইসাইকেল রপ্তানির পাশাপাশি দেশের বাজারে বিক্রির দিকেও নজর দেয়। করোনাকালে দেশে বাইসাইকেলের চাহিদা ২০ শতাংশের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশের বাজারেও বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতেও ব্যাপক হারে বাইসাইকেলের চাহিদা বেড়েছে। দেশ–বিদেশের বাড়তি চাহিদা মেটাতে আরএফএল হবিগঞ্জের কারখানাটি পুরোপুরি রপ্তানিমুখী করেছে। আর দেশীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে গড়ে তুলেছে গঙ্গাচড়ার কারখানা।

আরএফএল গ্রুপের এমডি আর এন পাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আমাদের কারখানাগুলোয় প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায়ও কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে চায় আরএফএল। বর্তমানে গঙ্গাচড়ার নতুন বাইসাইকেল কারখানায় ১০০ জন নারী ও ৩০০ জন পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সব মিলিয়ে আরএফএল গ্রুপের বাইসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনে আড়াই হাজার লোক কাজ করছেন।’

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন