বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই কারখানার মতো গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বস্ত্র ও পোশাক খাতের স্পিনিং, উইভিং, ডাইং, ফিনিশিং ও ওয়াশিং কারখানা। গতকাল ভুক্তভোগী অন্তত ১০ জন উদ্যোক্তার সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়। তাঁরা জানান, অন্তত এক মাস ধরে গ্যাস–সংকট চলছে। দু–তিন দিন ধরে সেই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সময়মতো কাপড় পৌঁছাবে না পোশাক কারখানায়। তাতে পোশাক রপ্তানি ব্যাহত হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে গত বছরের মার্চে একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিতাদেশ আসতে থাকে। এদিকে দেশেও ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় মাসখানেক কারখানা বন্ধ থাকে। তাতে গত বছরের এপ্রিল ও মে মাসে যথাক্রমে ৩৭ ও ১২৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৯৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। এরপরে ২০২০-২১ অর্থবছরে সেটি বেড়ে হয় ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ডলার। চলমান ২০২১-২২ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে।

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর মিতালি ফ্যাশনের এমডি তুহিন আবদুল্লাহ গতকাল বলেন, ‘গত ২০-২২ বছরের মধ্যে এখনই সবচেয়ে বেশি ক্রয়াদেশ আসছে। যদিও পোশাকের মূল্য নিয়ে আমরা চাপে আছি। তবে বর্তমানে গ্যাস নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। লাইনে গ্যাসের চাপ যেখানে ১২-১৫ পিএসআই থাকে, সেখানে এখন ৩-৪ বা ৫-৬ পিএসআই। কখনো সেটি ২ পিএসআইয়ে নেমে যাচ্ছে। লাইনে গ্যাসের চাপ কখন আসবে, তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সোমবার রাতে ১০ টন কাপড় ডাইং করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়েছে সাড়ে চার টন। এই অবস্থা চলতে থাকলে ২২ সেপ্টেম্বর গার্মেন্টস ইউনিটের সুইং লাইন বসে যেতে পারে।’

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, গাজীপুরে প্রায় দুই হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে পোশাক কারখানার সংখ্যা সাড়ে আট শ। দেশের মোট পোশাক রপ্তানির বড় অংশ অর্থাৎ ৬০-৭০ শতাংশ করে থাকে এই এলাকার কারখানাগুলো। ফলে গাজীপুরের কারখানা গ্যাসের জন্য উৎপাদন করতে না পারলে পুরো রপ্তানি খাতই ভুগবে।

শ্রীপুর এলাকায় হ্যাম্পফ গার্মেন্টসের এমডি শফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ১০ দিন ধরে গ্যাস–সংকট তীব্র হয়েছে। আজ (গতকাল) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ ১ পিএসআই ছিল। তারপর চাপ বাড়লেও বিকেল চারটার পর আবার কমে যায়। ফলে কাপড় ডাইং ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্রেতাদের কাছে বাড়তি সময় চাওয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লাইনের গ্যাস না পাওয়ায় ডিজেল দিয়ে বয়লার চালাতে হচ্ছে। কিন্তু ১০ টনের একটি বয়লার চালাতে ঘণ্টায় ৭০০ লিটার ডিজেল লাগে। এই বিপুল পরিমাণ ডিজেলের ব্যবস্থা করা কষ্টসাধ্য এবং তা ব্যয়বহুল ব্যাপার।

default-image

এদিকে শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে আজ বুধবার থেকে দৈনিক ছয় ঘণ্টা (বিকেল ৫টা-রাত ১১টা পর্যন্ত) করে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গত ৭ জুলাই মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে (পিক আওয়ারে) সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, ‘গ্যাসের অভাবে অনেক ডাইং কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। তাতে পোশাক কারখানার সুইং (পোশাক সেলাই) বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ক্রয়াদেশ বাতিল হবে অথবা আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হবে। তিনি আরও বলেন, কারখানাগুলোতে এখন প্রচুর ক্রয়াদেশ রয়েছে। করোনার মধ্যে এখনই আসলে ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। ৪০০-৫০০ কোটি ডলার বাড়তি রপ্তানি করা সম্ভব। কিন্তু গ্যাস–সংকটের মতো নিত্যনতুন সমস্যা আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। সরকারের উচ্চ মহল থেকে ব্যবসার প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকার বিষয়ে তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশনের গাজীপুরের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) কামরুল হাসান বলেন, বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে গ্যাস সরবরাহ করা, সিএনজি স্টেশন চালু রাখা এবং অবৈধ অনেক গ্যাস–সংযোগ থাকার কারণে গাজীপুরের শিল্পকারখানায় গ্যাস–সংকট দেখা দিয়েছে। তবে সরকার সিএনজি স্টেশনগুলোর জন্য যে নিয়ম করেছে, তাতে সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন