বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নতুন এই সেবার আওতায় চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার নিয়ে জাহাজ সুয়েজ খাল হয়ে প্রথমে নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম বন্দরে যাবে। সেখানে রপ্তানি পণ্য খালাস করে যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বন্দরে পৌঁছাবে জাহাজটি। একইভাবে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রামে ফিরবে।

অলসিজ গ্লোবাল লজিস্টিকস কোম্পানির জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধি ফনিক্স শিপিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সৈয়দ সোহেল হাসনাত প্রথম আলোকে বলেন, নতুন সেবায় চট্টগ্রাম থেকে ২৩ দিনের মধ্যে যুক্তরাজ্যে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব। এখন ঘুরপথে সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দর হয়ে যুক্তরাজ্যে যেতে ৩৫-৪০ দিনের মতো সময় লাগছে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে প্রথমবার ইতালিতে সরাসরি কনটেইনার জাহাজে পণ্য পরিবহনে সেবা চালু হয়। ইতালির ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান রিফ লাইন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্যালিপসো কোম্পানিয়া ডি নেভিগেশন এই সেবা চালু করে। প্রতিষ্ঠানটি দুটি জাহাজে এ পর্যন্ত পাঁচবার আমদানি-রপ্তানি পণ্য আনা-নেওয়া করেছে, সময় লেগেছে ১৮ থেকে ২০ দিন। এরপর ইউরোপের আরও দুই গন্তব্যে আগামী মাসে সরাসরি জাহাজ সেবা চালুর ঘোষণা দেয় সুইজারল্যান্ডের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কমোডিটি সাপ্লাইস এজি। তারা আগামী মাসে চট্টগ্রাম থেকে স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে সরাসরি কনটেইনার পণ্য পরিবহনের জন্য তিনটি জাহাজ নামাচ্ছে।

সরাসরি জাহাজ সেবা চালুর উদ্যোগে নীতিগত সহযোগিতা করছে চট্টগ্রাম বন্দর। সে জন্য একের পর এক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। তাতে সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর হয়ে রপ্তানিতে নির্ভরশীলতা কমবে। কারণ বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে ইউরোপ-আমেরিকামুখী রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার প্রথমে ছোট আকারের কনটেইনার জাহাজে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং ও তানজুং পেলাপাস বন্দরে নেওয়া হয়। এই চারটি বন্দরে নামানোর পর বুকিং পেলে ইউরোপ-আমেরিকামুখী বড় জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। এভাবে চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর বা শ্রীলঙ্কার বন্দর ঘুরে ইউরোপের দেশে কনটেইনার পণ্য পরিবহনে স্বাভাবিকভাবে সময় লাগে ২৪-২৮ দিন। তবে করোনার পর থেকে সিঙ্গাপুর বা শ্রীলঙ্কায় বড় জাহাজে বুকিং পেতে দেরি হওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সময় লাগছে ৩০ থেকে ৩৫ দিনের বেশি।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সরাসরি জাহাজ সেবায় বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্য কম সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব। রপ্তানি খাতকে এগিয়ে নিতে সরাসরি জাহাজ সেবায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যারা উদ্যোগ নিচ্ছে, তাদের আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি।

নতুন সেবার আওতায় যেসব জাহাজ নামানো হচ্ছে সেগুলোর কনটেইনার পরিবহনসক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি। ১ হাজার ৮১৯ একক কনটেইনার পরিবহনক্ষমতা রয়েছে স্যান আলফোনসো জাহাজের। এ ছাড়া এমভি অ্যামো ১ হাজার ৭৩০ একক কনটেইনার এবং বিবিসি ফিনল্যান্ড ১ হাজার ৫০১ একক কনটেইনার পরিবহনে সক্ষম।

বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরাসরি জাহাজ সেবা যত বেশি চালু হবে, ততই প্রতিযোগী দেশের তুলনায় এগিয়ে যাবে দেশের পোশাক খাত। সেবার আওতায় জাহাজ চলাচলের সংখ্যা বাড়লে পূর্ণাঙ্গ সফলতা মিলবে।’

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন