default-image

করোনা মহামারির ধাক্কা সামলিয়ে চট্টগ্রামের আবাসন খাত আবার গতি পেয়েছে। থেমে যাওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। আবার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে করোনাভীতি কাটিয়ে ক্রেতারাও ফ্ল্যাট কিনতে শুরু করেছেন।

চট্টগ্রামে এখন ২৫০ প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পে তিন হাজারের মতো অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই দু-তিন বছর আগে হাতে নিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। এসব তথ্য আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের।
জানতে চাইলে রিহ্যাবের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, ‘করোনার শুরুতে সাধারণ ছুটি ও ভীতির কারণে অন্তত চার মাস আবাসন প্রকল্পগুলোর কাজ হয়নি। মহামারির ধাক্কা সামলে ওঠার পর কাজ শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, করোনার সময় যেভাবে ব্যবসা ৩০ শতাংশে নেমে এসেছিল, তা এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে।’

বন্দর শহর চট্টগ্রামে বেসরকারি খাতে আবাসন ব্যবসা শুরু হয় ৩৫ বছর আগে। প্রথম প্রতিষ্ঠান হলো আইডিয়াল হোম ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। চার উদ্যোক্তার এই প্রতিষ্ঠান ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রামের পূর্ব নাছিরাবাদে ‘আপন নিবাস’ নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ১০ বছর পর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই খাতে যুক্ত হয় শাইনপুকুর হোল্ডিংস। এরপর ১৯৯৯ সালে আসে ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট। এই শতকের শুরুতে একের পর এক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হতে থাকে। ফলে চট্টগ্রামে আবাসন ব্যবসার প্রসার ঘটে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু ২০১২-১৩ সালে এসে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও আবাসন ব্যবসা হোঁচট খায়। প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই অনেক প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যায়। ব্যবসা বন্ধ করে দেয় রিহ্যাবের অনেক সদস্য। রিহ্যাবের ১০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বর্তমানে ৭১টি প্রতিষ্ঠান এ ব্যবসায় টিকে আছে।

তবে আবাসন ব্যবসায়ীরা জানান, ৭১টি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকলেও মূলত গোটা দশেকের হাতেই রয়েছে অধিকাংশ প্রকল্প। শীর্ষ সারির এসব প্রতিষ্ঠান আবার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টই তৈরি করছে বেশি। বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের দাম দুই কোটি টাকা থেকে শুরু হয়। সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মাঝারি আকারের অ্যাপার্টমেন্টের। এ ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের দাম ৯০ লাখ থেকে কোটি টাকার কম-বেশি। এ ছাড়া ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা দামের অ্যাপার্টমেন্ট হাতে নিচ্ছে বেশি।

শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান জুমাইরা হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারে এখন অনেক ক্রেতা। আর শেয়ারবাজার চাঙা হতে থাকায় সামনে এই খাতে বেচাকেনা বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।’

অপেক্ষাকৃত নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো অবশ্য বাজারে ক্রেতার সাড়া দেখেই অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান এপিএল হোল্ডিংস লিমিটেড। বছর দেড়েক আগে চালু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক নাজিউল শামীম প্রথম আলোকে জানান, করোনা শুরুর পর সাত-আট মাস ক্রেতারা সিদ্ধান্তহীনতায় থাকলেও এখন তা নেই। টিকা আসছে, ভীতি কাটছে। শেয়ারবাজার চাঙা হচ্ছে। এতে বড় অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদাও তৈরি হয়েছে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন