default-image

দীর্ঘ সাত বছর পর পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে সদস্যদের ভোট প্রদানে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়ায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। সব সদস্যের বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র এখনো হয়নি।

নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট সম্মিলিত পরিষদের নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনকে পাশ কাটিয়ে হঠাৎ ভোটে বায়োমেট্রিক কার্ড বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বেআইনি। অন্যদিকে বাকি দুই জোট ফোরাম ও স্বাধীনতা পরিষদের নেতারা বলছেন, বায়োমেট্রিক কার্ড ব্যবহার করা হলে নির্বাচনে স্বচ্ছতা আসবে।

বিজ্ঞাপন

বিজিএমইএর বোর্ড সভায় গত ডিসেম্বরে সরকারের প্রণোদনা প্রাপ্তি ও সংগঠনের বিভিন্ন সেবা প্রদানে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র করার সিদ্ধান্ত হয়। তাতে সদস্যের ছবি, আঙুলের ছাপসহ সব তথ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গত ১৬ জানুয়ারি সদস্যদের বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্রের জন্য ছবি, স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। গত সোমবার পর্যন্ত ১ হাজার ১৫০ সদস্যের বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্রের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে গত ১২ জানুয়ারি বিজিএমইএর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আগামী ৪ এপ্রিল রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৩৫ পরিচালক পদে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত না হলেও নির্বাচনকেন্দ্রিক তিন জোটই প্যানেল লিডার চূড়ান্ত করেছে।

বিজিএমইএর সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতা জানান, চলতি সপ্তাহে বিজিএমইএর সচিব মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্রের নিবন্ধন শেষ করতে সদস্যদের মুঠোফোনে বার্তা পাঠান। সেখানে আগামী নির্বাচনে ভোট প্রদানে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র লাগবে বলে জানানো হয়। বার্তাটি পাওয়ার পর থেকেই সম্মিলিত পরিষদের নেতারা আপত্তি তোলেন। বিষয়টি নিয়ে সোমবার সম্মিলিত পরিষদের দুজন নেতার সঙ্গে সচিবের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়। তারপর সচিব পদত্যাগ করেন। সেটি আগামী ১৯ এপ্রিল কার্যকর হবে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ফোরামের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে ভোট প্রদানে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র ব্যবহার নিয়ে আপত্তি থাকার কোনো কারণ নেই। এটি ব্যবহার করলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বাইরের মানুষজন যেসব কথা বলেন, তা বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ সদস্যের বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্রের নিবন্ধন শেষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করা কোনো বিষয় নয়।

অন্যদিকে সম্মিলিত পরিষদের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘ভোট প্রদানে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করতে বর্তমান পর্ষদ যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। এমন কোনো উদ্যোগ নিতে হলে বার্ষিক সাধারণ সভার অনুমোদন লাগে। আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। উনি আমাদের নিশ্চিত করেছেন, ভোট প্রদানে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র ব্যবহারের কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা নেননি।’

সর্বশেষ ২০১৩ সালে সাধারণ সদস্যদের সরাসরি ভোটে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হয়েছিল। পরের বার সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম দুই মেয়াদের জন্য সমঝোতা করে। সেই সমঝোতার প্রথম দফায় অর্থাৎ ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বরে সম্মিলিত পরিষদের সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটি হয়। সেই কমিটি নানা অজুহাত দেখিয়ে ৪৩ মাস দায়িত্ব পালন করে।

বিজ্ঞাপন

পরের মেয়াদে সমঝোতার কমিটি করার উদ্যোগ নেয় দুই জোট। তবে বাগড়া দেয় স্বাধীনতা পরিষদ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালের শুরুতে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে। সে সময় নির্বাচন থেকে তাদের সরিয়ে দিতে নানামুখী চেষ্টাও করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা পরিষদ খণ্ডিত প্যানেলে প্রার্থী দেয়। সে কারণে ঢাকায় নিয়ম রক্ষার ভোট হয়েছিল। তবে স্বাধীনতা পরিষদের কেউ সেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি।

আগামী নির্বাচনের জন্য সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার বা সভাপতি প্রার্থী হতে যাচ্ছেন জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান। ফোরামের প্যানেল লিডার হচ্ছেন হান্নান গ্রুপের চেয়ারম্যান এ বি এম সামসুদ্দিন। বর্তমান সভাপতি রুবানা হকও নির্বাচন করবেন। অন্যদিকে স্বাধীনতা পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম জোটটির নেতৃত্ব দেবেন।

সম্মিলিত পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম, সাভার, আশুলিয়া, মির্জাপুর ও হেমায়েতপুরে পোশাকমালিকদের সঙ্গে নির্বাচনী সভাও করেছেন। পরিষদের প্যানেল লিডার ফারুক হাসান বলেন, ‘সংগঠনের সদস্যরা দীর্ঘদিন ভোটের প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন না। তাই আমরা সদস্যদের সঙ্গে গণসংযোগ করছি।’ ফোরামের প্যানেল লিডার এ বি এম সামসুদ্দিন বলেন, ‘আগামী শনিবার আমাদের একটা বৈঠক হবে। তারপর আমরা গণসংযোগ শুরু করব।’

এদিকে নির্বাচনে ফোরামের কয়েকজন নেতা বিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতা পরিষদের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ফোরাম নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে সমঝোতা হবে কি না, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামে সব কটি পদে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন