default-image

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নির্বাচনে বর্তমান সভাপতি রুবানা হক ও তাঁর ছেলে নাভিদুল হক বিজয়ী হয়েছেন। ফলে সংগঠনের পরবর্তী পর্ষদে পরিচালক পদে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন মা-ছেলে। সংগঠনটির ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটছে। দেশের ব্যবসায়িক সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদেও এমন ঘটনা বিরল।

বিজিএমইএর ২০২১-২৩ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন গতকাল রোববার শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। ১০ ঘণ্টার ভোটে সংগঠনটির ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৮৬ শতাংশ ভোটার বা ১ হাজার ৯৯৬ জন নিজেদের রায় দেন। ভোট গণনা শেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন বোর্ড। এতে ফারুক হাসানের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫ পরিচালক পদের মধ্যে ২৪টিতে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে এ বি এম সামছুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ফোরাম ১১ পরিচালক পদে বিজয়ী হয়েছে। রুবানা হক ও নাভিদুল হক ফোরামের হয়ে নির্বাচন করেন।

রুবানা হক ২০১৯ সালের এপ্রিলে বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্ব নেন। তিনিই এই সংগঠনের প্রথম নারী সভাপতি। রুবানা হকের স্বামী আনিসুল হক ২০০৪ সালের মার্চ থেকে ২০০৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিজিএমইএর সভাপতি ছিলেন।

নির্বাচনে সর্বাধিক ১ হাজার ২০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন ফারুক হাসান। তারপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৫৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন সভাপতি রুবানা হক। চট্টগ্রামের ২০৩ ও ঢাকার ৯৫৪ জন ভোটারের ভোট পান বিজিএমইএর বর্তমান এই সভাপতি। অন্যদিকে তাঁর ছেলে নাভিদুল হক ৯৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি চট্টগ্রামের ১৭৯ ও ঢাকার মালিকদের ৭৬৪টি ভোট পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রুবানা হক ২০১৯ সালের এপ্রিলে বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্ব নেন। তিনিই এই সংগঠনের প্রথম নারী সভাপতি। রুবানা হকের স্বামী আনিসুল হক ২০০৪ সালের মার্চ থেকে ২০০৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিজিএমইএর সভাপতি ছিলেন। পরে তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রথমবারের মতো বিজিএমইএর পর্ষদে মা-ছেলে দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রুবানা হক আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমাদের সন্তান আমাদের চাইতে অনেক ভালো। মা হিসেবে আমি আশা করি, আমার ছেলে তাঁর শিক্ষা, নিষ্ঠা আর সততা দিয়ে বিজিএমইএর পর্ষদে কাজ করবে।’

জানতে চাইলে বিজিএমইএর নবনির্বাচিত পরিচালক নাভিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাবা-মার কারণেই আমি আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছি। এটিও সত্য যে আমি কিছু কাজ করেছি। আমাকে আমার কাছে আমার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। সংগঠনের পরিচালক পদে গেলে পোশাকশিল্পের জন্য কিছু করতে পারব, সেটি নিশ্চিত হওয়ার পরই কিন্তু মা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন।’ পর্ষদে মায়ের সঙ্গে কাজ করা চ্যালেঞ্জিং হবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সব ক্ষেত্রেই আমার বাবা-মার কাজ দিয়েই আমাকে সবাই বিচার করে। এটি আমার প্রতিদিনকার চ্যালেঞ্জ। কোনো দিনই আমি তাঁদের কাছাকাছি যেতে পারব না। তবে তাঁদের সুনাম নষ্ট হবে এমন কোনো কাজ আমি কখনোই করব না।’

নির্বাচনে অধিকাংশ পদে বিজয়ী হওয়ায় ফারুক হাসানের নেতৃত্ব বিজিএমইএর পর্ষদ গঠিত হবে। ফারুক হাসান হবেন সংগঠনটির পরবর্তী সভাপতি। তার আগে কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। বিজয়ী পরিচালকেরা আগামী ১৬ এপ্রিল সভাপতি ও সাতজন সহসভাপতি নির্বাচিত করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০ এপ্রিল আগামী দুই বছরের নতুন কমিটি বিজিএমইএর দায়িত্ব নেবে।

দীর্ঘ আট বছর পর বিজিএমইএর নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে সংগঠনের ৩৫ পরিচালক পদের জন্য লড়েছেন নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের ৭০ জন প্রার্থী। স্বাধীনতা পরিষদ নামের আরেকটি জোট সম্মিলিত পরিষদের সঙ্গে যৌথভাবে নির্বাচন করেছে।

বিজ্ঞাপন
শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন