প্রথম আলো: চামড়ার মূল্য বিপর্যয় রোধে আর কী করা প্রয়োজন?

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম: দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে দেশীয় ক্রেতার সংখ্যা বেশি এবং সীমিতসংখ্যক বিদেশি ক্রেতার কমপ্লায়েন্সের বিষয়গুলো নিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো চাপ আসে না। কাঁচা চামড়ার বাজারটি পুরোপুরি দেশীয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশীয় শিল্পের কাঁচামালের থেকেও নিম্ন পর্যায়ের একটি ব্যবস্থা এখানে গড়ে উঠেছে। এটিকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন।

আমাদের চামড়ার প্রক্রিয়াকরণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী না হওয়ার পাশাপাশি সীমিতসংখ্যক ট্যানারি ও পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি ক্রেতার কারণে বাজারের আকার খুবই ছোট। আবার পাচারের অভিযোগ এনে পার্শ্ববর্তী দেশে রপ্তানি বন্ধ করে পুরো বাজারটিকে অভ্যন্তরীণমুখী করে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে আড়তদার, ট্যানারিমালিক, জুতা ও চামড়া পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সবাই মিলে এ সুবিধার অপব্যবহার করে চলেছেন। ফলে চামড়ার বাজার উন্মুক্ত করা দরকার।

চলতি বছর ওয়েট ব্লু রপ্তানির জন্য পাঁচটি কোম্পানিকে অনুমতি দিয়েছে সরকার। তারা এক কোটি বর্গফুট চামড়া রপ্তানি করতে পারবে। এ উদ্যোগ ইতিবাচক। এ জন্য কাঁচা চামড়ার দামে কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যেহেতু দেশের ভেতরে চাহিদা খুব বেশি সৃষ্টি হচ্ছে না, তাই আগামী বছরগুলোতে ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি অব্যাহত রাখা দরকার।