প্রথম আলো: বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে শ্রমিকদের থাকার বিষয়ে আপনার ভাবনা কী?

ইউসুফ হারুন: বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের ফেনীর অংশ শ্রমিকদের আবাসনের জন্য রাখা হচ্ছে। সেখানে এক হাজার একর জায়গার ওপর আবাসিক এলাকা গড়ে উঠবে। আশা করছি শ্রমিকদের থাকার কোনো সমস্যা হবে না।

প্রথম আলো: বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে একটি বন্দর করার দাবি ব্যবসায়ীদের। সেখানে বন্দর করার বিষয়ে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে?

ইউসুফ হারুন: বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বন্দর করা নিয়ে জাপানের সুজিত করপোরেশনকে সমীক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের কাছ থেকে সমীক্ষা প্রতিবেদনটি পাব। সমীক্ষা প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে সেখানে বন্দর হবে কি না। তবে আশা করছি, সেখানে ব্যবসায়ীদের বন্দরসুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে। ভারতের একটি কোম্পানি অস্থায়ীভাবে তাদের মালামাল আনার জন্য একটি জেটি করছে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে।

প্রথম আলো: বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানির সমস্যা নিয়ে ব্যবসায়ীরা কথা বলছেন। এ বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

শেখ ইউসুফ হারুন: পানির নিশ্চয়তা ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে কতটুকু পানির প্রয়োজন, আমরা প্রথমে চাহিদা নিরূপণ করেছি। সেখানে পানির চাহিদা মেটাতে ৩৫টি গভীর নলকূপ বসানো হবে। মাতামুহুরী নদী থেকে পানি আনা হবে। মেঘনা নদী থেকেও ১২০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসিয়ে পানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া যারা শিল্পকারখানা করছে, তারাও নিজেদের উদ্যোগে পানির ব্যবস্থা করছে। আমরা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর জোর দিচ্ছি না। কারণ, এটি পরিবেশের ক্ষতি করে। আমরা ভূ-উপরিভাগের পানি ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

প্রথম আলো: বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে এখন পর্যন্ত দেশি বিনিয়োগের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ তেমন দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

ইউসুফ হারুন: বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে আমাদের দেশি অনেক কোম্পানি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবসা করছে। সে জন্য আপাতদৃষ্টে মনে হতে পারে সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ কম। এখানে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য এক হাজার একর জমি দেওয়া হয়েছে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য এক হাজার একর জমি দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগ আছে এখানে। আমরা সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানার বিনিয়োগকে যেমন অগ্রাধিকার দিই, তেমনি যৌথ বিনিয়োগকেও গুরুত্ব দিই, উৎসাহিত করি। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিদেশি বিনিয়োগ কম, এটা বলা যাবে না।

প্রথম আলো: বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি কেন? পছন্দের জায়গায় শীর্ষে কেন মিরসরাই?

ইউসুফ হারুন: সরকারের নীতি হলো যেখানে–সেখানে এলোমেলোভাবে শিল্পাঞ্চল করা যাবে না। শিল্পকারখানা করতে হলে অর্থনৈতিক অঞ্চলে করতে হবে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে তুলনামূলক আগ্রহ বেশি হওয়ার কারণ হলো, সেখানে চট্টগ্রাম বন্দরসুবিধা আছে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের পাশে বিমানবন্দর রয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো, সেখানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। এসব কারণে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিনিয়োগে ব্যবসায়ীদের আকর্ষণ বেশি।

প্রথম আলো : আপনার তিন বছরে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরকে ঘিরে পরিকল্পনা কী?

ইউসুফ হারুন: নতুন কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে নজর দেব না। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে। তবে মনে রাখতে হবে, তিন বছর খুব অল্প সময়। তিন বছর সময়ে যত কিছু করা দরকার, তা–ই করব। আমি আশা করব, যারা সেখানে জমি নিয়েছে, তারা দ্রুত কাজ শুরু করবে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন