default-image

দেশের নন-লাইফ (সাধারণ) বিমা কোম্পানিগুলোর এজেন্ট কমিশনের উচ্চ হার নিয়ে অভিযোগ অনেক পুরোনো। গোপনে ৫০, ৬০ ও এমনকি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দেওয়াটা বিমা খাতে একধরনের ‘ওপেন সিক্রেট’। প্রতিকার হিসেবে ২০১২ সালের এপ্রিলে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এক প্রজ্ঞাপন জারি করে তা ১৫ শতাংশ বেঁধে দেয়। কিন্তু সেটাও কেউ মানছিল না।

আইডিআরএ তাই এবার ৪৬টি সাধারণ বিমা কোম্পানির এজেন্ট কমিশন পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে। কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলেছে, সাধারণ বিমা খাতে আইডিআরএ অনেক পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও কমিশনসংক্রান্ত বিষয়ে শৃঙ্খলা পুরোপুরি নিশ্চিত হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

আইডিআরএ সব সাধারণ বিমা কোম্পানির উদ্দেশে গত বৃহস্পতিবার কমিশন বাতিলের কথা জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বিমা দিবস অর্থাৎ আগামী ১ মার্চ থেকে তা কার্যকর হবে। ফলে এজেন্টরা কাগজে-কলমে এত দিন যে ১৫ শতাংশ কমিশন পেয়ে আসছিলেন, আগামী মাস থেকে তা বন্ধ হয়ে যাবে।

আইডিআরএর চেয়ারম্যান এম মোশারফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিমা খাতে শৃঙ্খলা আনার স্বার্থেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে কোম্পানিগুলোর অবস্থান শক্ত হবে।’

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিমা খাতে শৃঙ্খলা আনার স্বার্থে বিমা আইনের ধারা অনুযায়ী বিমা এজেন্ট নিয়োগ ও নিবন্ধন প্রবিধানমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ বিমা খাতে এজেন্টদের কমিশন দেওয়া বন্ধ থাকবে।

এজেন্ট কমিশন বাতিলের পাশাপাশি সাধারণ বিমা খাতে ব্যবসা অর্জন বা সংগ্রহের বিপরীতে ১৫ শতাংশ এজেন্ট কমিশন দেওয়ার যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ২০১২ সালের ১ এপ্রিল, পরে আবার কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত থাকবে।

‘বিমা খাতে শৃঙ্খলা আনার স্বার্থেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে কোম্পানিগুলোর অবস্থান শক্ত হবে।’
এম মোশারফ হোসেন, আইডিআরএর চেয়ারম্যান

বলা হয়েছে, উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা-সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন পরের মাসের ৭ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত ছকে আইডিআরএর কাছে পাঠাতে হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাদে সব উন্নয়ন কর্মকর্তার নিয়োগপত্রে বেতন-ভাতার কথা উল্লেখ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী তা দিতে হবে। অর্থাৎ তাঁদের বেতন-ভাতা প্রিমিয়ামের শতকরা হারে আর দেওয়া যাবে না।

সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের জন্য যে নির্ধারিত ব্যাংক থাকবে, কোম্পানিগুলোর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ওই হিসাব থেকেই ব্যয় করতে হবে। ওই হিসাব থেকে যার যার ব্যাংক হিসাবে তা স্থানান্তরিত হবে অথবা অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেক দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আইডিআরএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এজেন্ট কমিশন নিয়ে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল। সেটা এখন বন্ধ হয়ে যাবে। প্রকারান্তরে কোম্পানিগুলোই লাভবান হবে।

‘কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সংগ্রহ করে আসছিলেন মূলত উন্নয়ন কর্মকর্তারাই, এজেন্ট মূলত ছিলই না। এত দিন কমিশন যে নেওয়া হচ্ছিল, সেটাই ঠিক ছিল না। ফলে আইডিআরএর পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।’
শেখ কবির হোসেন, বিআইএর সভাপতি

গত বছরের জুলাই মাসে বিমা কোম্পানিগুলোর মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সঙ্গে বৈঠক করে আইডিআরএ, যে বৈঠকে ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন বন্ধের সুপারিশ আসে।

কমিশন বন্ধই করে দেওয়া হলো, ব্যাপারটা কীভাবে দেখছেন বিআইএর সভাপতি শেখ কবির হোসেন, জানতে চাইলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সংগ্রহ করে আসছিলেন মূলত উন্নয়ন কর্মকর্তারাই, এজেন্ট মূলত ছিলই না। এত দিন কমিশন যে নেওয়া হচ্ছিল, সেটাই ঠিক ছিল না। ফলে আইডিআরএর পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।’

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন