শাহীন আহমেদ আরও বলেন, চলতি মৌসুমে আমাদের প্রায় এক কোটি চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী সারা দেশে এবার কোরবানি হয়েছে ৯৯ লাখ গবাদিপশু। এর মধ্যে খাসি ও বকরির চামড়া রয়েছে। তার একটি অংশ আবার নষ্টও হয়েছে। সে কারণে চলতি মৌসুমে শেষ পর্যন্ত ৯০–৯৫ লাখ চামড়া সংগ্রহ হবে বলে মনে হচ্ছে।

ঈদের দিন গত রোববার দুপুরে রাজধানীর পুরান ঢাকার পোস্তায় ছোট আকারের গরুর চামড়া ২০০–২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের গরুর চামড়া মানভেদে ৩০০–৭৫০ টাকা এবং বড় আকারের গরুর চামড়া ৮০০–১,১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে অধিকাংশ আড়তদার ছোট আকারের গরুর চামড়া এবং খাসি ও বকরির চামড়া কিনতে অনীহা দেখান। বিকেলে ছোট আকারের গরুর চামড়া কেউ বিক্রি করতে আনলে ১০০ টাকা দামও বলছেন ব্যবসায়ীরা। আর খাসি ও বকরির চামড়া ১০ টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪৭ থেকে ৫২ টাকা নির্ধারণ করে। ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। এ ছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ও ঢাকায় বকরি ও খাসির চামড়ার দাম একই রাখা হয়।

ঈদের দিন যে দামে কাঁচা চামড়ার বিক্রি হয়েছে, সেটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দামের চেয়ে কম কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে শাহীন আহমেদ বলেন, আমার মনে হয় যে দামে কাঁচাচামড়া কেনাবেচা হয়েছে, তা ঠিক আছে। কারণ, একটি চামড়ায় অন্তত সাত–আট কেজি লবণ দিতে হয়। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টাকা শ্রমিক খরচ আছে। এ ছাড়া পরিবহন ও আড়ত খরচ আছে। সব মিলিয়ে প্রতিটি চামড়া সংরক্ষণে ২০০–২৫০ টাকা লাগে। সুতরাং সে হিসাবে চামড়ার দাম ঠিকই ছিল। আবার চামড়ার কিছু অংশ বাদও যায়।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন