বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সম্প্রতি এক দুপুরে গাঙকুল গ্রামে রত্না রানী পালের বাড়ির উঠোনে বসে কথা হলো। রত্না রানী বলেন, ‘মাটির কাজ ছাড়া আর কোনো কাজ জানি না। ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদাদের দেখেছি, কীভাবে মাটির জিনিসপত্র বানাতে হয়। তাদের কাছেই কাজ শিখেছি। এখন আর কী করব? তাই বাপ-দাদার কাজেই আছি।’

লাভ কেমন হয়, এ কথা জিজ্ঞাসা করতেই নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরলেন। তিনি জানান, সারা মাস খেটে তিনি একাই এক হাজার মাটির পাত্র বানাতে পারেন। প্রতিদিন ৩০-৪০টি মাটির হাঁড়ি বানিয়ে রাখেন। মাসে একবার বাড়ির উঠানে একসঙ্গে প্রায় এক হাজার হাঁড়ি পোড়ানো হয়। সব মিলিয়ে খরচ হয় ছয় হাজার টাকা। যেমন এক ট্রাক্টর মাটির দাম দুই হাজার টাকা পড়ে। আর পোড়ানোর জন্য তিন বস্তা খড় কিনতে খরচ হয় ১ হাজার ৮০০ টাকা। এ ছাড়া গোবরের লাঠি (জ্বালানি) ৮০০ টাকা, লাকড়ি ৬০০ টাকা, প্রলেপের জন্য কাদামাটি কেনায় ৩০০ টাকা লাগে। এ ছাড়া যেদিন পোড়ানো হবে, সেদিন একজন লোক লাগে। তাঁকে ৫০০ টাকা মজুরি দিতে হয়।

সবশেষে এক কেজি দইয়ের হাঁড়ি পাইকারি মূল্য মাত্র ৯ টাকা। এক হাজার হাঁড়ির জন্য রত্না রানী পান মাত্র ৯ হাজার টাকা। সারা মাস খাটুনির পর খরচ বাদে আয় মাত্র তিন হাজার টাকা।

রত্না রানী পালের তিন সন্তান, এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ১৬ বছর বয়সী বড় ছেলে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। বাকি দুই মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। স্বামীসহ পাঁচজনের সংসার চালাতে কষ্ট হয়। স্বামী বিকাশ পালও একসময় পেশায় কুমার ছিলেন। কিন্তু রোজগার কম, তাই বছর চারেক আগে থেকে ভ্যানগাড়ি চালাতে শুরু করেন। সময় পেলেই স্ত্রীকে কাজে সহায়তা করেন।

রত্না রানী পাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুমারদের কেউ দাম দেয় না। নিচু জাতের মনে করে, অনেকে কথাই বলতে চায় না। অন্য কোনো কাজ তো শিখিনি। তাই কষ্ট হলেও এ পেশায় আছি।’ তিনি বলেন, মেয়েদের তিনি লেখাপড়া করাবেন। এ পেশায় কিছুতেই আনবেন না।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন