প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চাইলেন বিজিএমইএর নেতারা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে গ্যাস–বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএর নেতারা। তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন সচল রাখা ও নির্ধারিত সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ নিশ্চিত করতে গ্যাস–বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চান তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা বন্ডের নিরীক্ষা সহজীকরণ, বিমানবন্দরে অস্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণ ও গাজীপুরে শ্রমিক হাসপাতালের জন্য জমিসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন।
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধিদল এই দাবি করেছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন সহসভাপতি সেলিম রহমান, ইনামুল হক খান, মো. রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী প্রমুখ।
বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বিজিএমইএর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস–বিদ্যুতের দাবি জানিয়ে বিজিএমইএর নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক জ্বালানিসংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে খরচ বেড়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি ব্যবস্থা দ্রুত চালুর দাবি জানান তাঁরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে পোশাকশিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি তৈরি পোশাক খাতের সুরক্ষা, সচল কারখানাগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ, নীতিগত সহায়তা সহজীকরণ ও বন্ধ কারখানা সচল করতে সরকারের ধারাবাহিক নীতিসহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএর নেতারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকার লক্ষ্যে সমন্বিত শুল্ক–কর, আর্থিক ও রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা বন্ড কর্তৃপক্ষের ঘন ঘন নিরীক্ষা জটিলতা দূর করতে শীর্ষস্থানীয় পেশাদার অডিট ফার্মগুলোর মাধ্যমে বার্ষিক কাস্টমস অডিট সম্পন্ন করার স্থায়ী নীতিমালার প্রস্তাব করেন বিজিএমইএর নেতারা। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং ধারণক্ষমতার স্বল্পতায় লিড টাইম বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘অস্থায়ী কার্গো শেড’ নির্মাণের দাবিও করেন তাঁরা।
একই সঙ্গে শ্রমিকের মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে গাজীপুরে শ্রমিক হাসপাতালের জন্য জমি বরাদ্দ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) পরিপালন সহজ ও বেনাপোল বন্দরে সেবা সহজ করার দাবি করেন বিজিএমইএর নেতারা।