বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিরামিক পণ্যের ক্ষেত্রে আমাদের আমদানি–নির্ভরতা কমেছে। স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৮৫ ভাগ সিরামিক পণ্যই এখন দেশে তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণও বাড়ছে। আমরা তৈরি পোশাক খাতের মতো সিরামিক খাতেও শতকোটি ডলারের রপ্তানি আশা করছি।

এ সময় চলমান জ্বালানিসংকট নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় শিল্পকারখানা চালানো মুশকিল হচ্ছে। তবে আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, সিরামিক খাতের উন্নয়নে দ্রুত সিরামিক শিল্পনগরী বাস্তবায়ন, কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।

বর্তমানে অর্ধশতাধিক দেশে সিরামিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানান বিসিএমআইএ সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। তিনি বলেন, দেশে ইতিমধ্যে সিরামিক, টেবিলওয়্যার, টাইলস স্যানিটারিওয়্যার খাতে ৭০টির বেশি শিল্পকারখানা তৈরি হয়েছে। গত ১০ বছরে এই খাতে উৎপাদন বেড়েছে ২০০ শতাংশ। আর বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন বলেন, প্রদর্শনীতে এই খাতের প্রস্তুতকারক, রপ্তানিকারক ও সরবরাহকারীদের সংযোগ ঘটবে।

ক্রেতা–বিক্রেতাদের সমাগম

মেলায় অংশ নিয়েছে স্যানিটারি ওয়্যার তৈরির যন্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানি ইউনিম্যাক। তুরস্কের এ কোম্পানিটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক গুয়েন টেক বলেন, তাঁরা ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন আরও কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির উদ্দেশ্যে তাঁরা এ মেলায় অংশ নিয়েছেন।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শামীমা বেগম তাঁর নতুন বাড়ির জন্য বিভিন্ন সিরামিক পণ্য দেখতে এসেছিলেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘প্রদর্শনীতে সব বড় কোম্পানির অন্দরসজ্জার পণ্য এক স্থানে আছে। তাই পছন্দের পণ্য বাছাই করতে সুবিধা হবে, এ জন্য এসেছি।’

প্রদর্শনীতে পলিসেল করপোরেশনের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা ইয়াসীন আলী বলেন, ‘আমরা সিরামিক সামগ্রী মোড়কজাতের পণ্য তৈরি করি। এখানে এসে বিভিন্ন সিরামিক কোম্পানির কাছে আমাদের পণ্য তুলে ধরতে পারছি।’