এ্যাসেট ডেভেলপমেন্টস এন্ড হোল্ডিংস, আবাসন খাতে আস্থার ২৫ বছর

এ্যাসেট ডেভেলপমেন্টস এন্ড হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়।ছবি: এ্যাসেট ডেভেলপমেন্টস।

একটি সুন্দর ও নিরাপদ আবাসনের স্বপ্ন মানুষের চিরন্তন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ১৯৯৯ সাল থেকে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে দেশের আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘এ্যাসেট ডেভেলপমেন্টস এন্ড হোল্ডিংস লিমিটেড’। দীর্ঘ আড়াই দশক বা ২৫ বছরের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি কেবল ইমারত নির্মাণ করেনি; বরং তৈরি করেছে হাজারো পরিবারের হাসি আর আজীবনের আস্থার এক মজবুত সেতুবন্ধ।

অভিজ্ঞতার শক্তিতে আধুনিক নগরায়ণ 

আবাসনশিল্পের অভিজ্ঞ পেশাদারদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউতে। শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল গতানুগতিক ভবনের বাইরে নান্দনিক ও কার্যকর জীবনযাপনের স্পেস তৈরি করা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অভিজ্ঞ আবাসনবিশেষজ্ঞ সেলিম আকতার খান। তাঁর সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ও নির্দেশনায় এ্যাসেট আজ ‘বিল্ডার্স অব ড্রিম’ বা ‘স্বপ্নের কারিগর’ হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সাফল্যের সংখ্যাতত্ত্ব 

এ্যাসেট ডেভেলপমেন্টসের সাফল্যের পাল্লা কতটুকু ভারী, তা বোঝা যায় তাদের কাজের পরিসর দেখলে। দেশের বাজারে বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এ্যাসেট অন্যতম। এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৫৫০টির বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং ৬ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করেছে। গুলশান, বনানী, উত্তরা, বারিধারা ও বসুন্ধরা, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর ও ইন্দিরা রোডের মতো অভিজাত এলাকাগুলোতে তাদের শৈল্পিক স্থাপত্যশৈলী সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে।

মান ও নির্মাণশৈলীর প্রতিশ্রুতি 

একটি টেকসই আবাসনের প্রাণ হলো তার নির্মাণ উপকরণ। এ্যাসেট ডেভেলপমেন্টস তাদের প্রতিটি প্রকল্পে উন্নত মানের সিমেন্ট, স্টিল, টাইলস ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। নিজস্ব সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে তারা উপকরণের গুণগত মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। স্থপতি, প্রকৌশলী এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা দলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি প্রকল্প হয়ে ওঠে আধুনিক আর্কিটেকচার এবং ফাংশনাল প্ল্যানিংয়ের এক অনন্য উদাহরণ।

নিরাপদ নির্মাণ

গ্রাহকদের নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন ভবন উপহার দিতে এসিআই কোড ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ করে ভূমিকম্প–সহনশীল নকশা ও ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।  

অর্থনীতি ও উন্নয়নে অবদান 

এ্যাসেট ডেভেলপমেন্টসের কার্যক্রম কেবল আবাসন তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের প্রতিটি প্রকল্পে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারের ফলে স্থানীয় সিমেন্ট, রড ও টাইলসশিল্পে ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে যেমন দেশীয় উদ্যোক্তারা লাভবান হচ্ছেন, তেমনি তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থপতি, প্রকৌশলী ও নির্মাণশ্রমিকদের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আবাসন প্রকল্পগুলো কেন্দ্র করে ওই সব এলাকায় স্কুল, বিপণিবিতানসহ নানা কার্যক্রমে পুরো এলাকার নগরায়ণচিত্রই বদলে যাচ্ছে।

বিক্রয়োত্তর সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত 

এ্যাসেট জানায়, গ্রাহকের হাতে চাবি তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের। ভবন রক্ষণাবেক্ষণ, ইউটিলিটি সমন্বয় এবং গ্রাহক সহায়তার জন্য তাদের রয়েছে একটি নিবেদিত দল। জমিমালিক এবং ফ্ল্যাট ক্রেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্কই তাদের বারবার নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এ্যাসেট ডেভেলপমেন্টস এন্ড হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সেলিম আকতার খান প্রথম আলোকে বলেন, ভবিষ্যতে নগরায়ণের ধারাকে আরও পরিবেশবান্ধব ও উদ্ভাবনী করতে কাজ করে যাচ্ছে এ্যাসেট ডেভেলপমেন্টস। আবাসন খাতের এই পরিবর্তনের সারথি হয়ে তারা চায়, প্রতিটি মানুষের মৌলিক আবাসন চাহিদাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে।