বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা দিতে হবে
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এ অবস্থায় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানো এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে হবে। তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি বা মেধাস্বত্ব অধিকার (আইপিআর) সুরক্ষায় জোর দিতে হবে।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘মেধাসম্পদ অধিকার কাঠামোর উন্নয়ন: ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ‘পেটেন্ট আইন ২০২৩’ এবং নতুন ‘নকশা (ডিজাইন) আইন’ তৈরির মাধ্যমে বড় একটি ধাপ পার করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে এই আইনগুলোকে আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। দেশের ট্রেডমার্ক আইন আধুনিক করলে বাংলাদেশ দুটি আন্তর্জাতিক বড় সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে। এক. মাদ্রিদ প্রটোকলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা দেশ থেকেই একটি আবেদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো একাধিক দেশে নিজেদের ব্র্যান্ড বা লোগো নিরাপদ রাখতে পারবেন। আলাদা করে প্রতিটি দেশে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। দুই. পেটেন্ট কো–অপারেশন ট্রিটির (পিসিটি) মাধ্যমে বাংলাদেশের কোনো উদ্ভাবক বা আবিষ্কারক মাত্র একটি আবেদনের মাধ্যমেই বিশ্বের অনেকগুলো দেশে তাঁর আবিষ্কারের অধিকার (পেটেন্ট) নিশ্চিত করতে পারবেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসের সিনিয়র কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট ও দক্ষিণ এশিয়ার আইপি পলিসি অ্যাডভাইজর শিল্পী ঝা বলেন, বাংলাদেশ যখন এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন মেধাস্বত্ব আইনের আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানের আইপি সুরক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হতে সাহায্য করবে। এটি শুধু রপ্তানি বাড়াবে না; বরং উদ্ভাবন উৎসাহিত করবে এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে।
শিল্পী ঝা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। আধুনিক মেধাস্বত্ব আইন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উদ্ভাবনকে নিবন্ধিত করা সহজ হবে। বিশেষ করে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাত এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।
তবে আইপিআর কাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান শিল্পী ঝা। তিনি বলেন, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক, কপিরাইট এবং ভৌগোলিক নির্দেশকের (জিআই) মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। শক্তিশালী এনফোর্সমেন্ট বা প্রয়োগের অভাব থাকলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নকল বা অপব্যবহারের ভয়ে বাংলাদেশে উন্নত প্রযুক্তি বা প্রিমিয়াম পণ্য আনতে নিরুৎসাহিত হয়।
অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, একটি নিরাপদ আইপিআর কাঠামো বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক আমদানিকারকদের বাংলাদেশ থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।