এবার আবাসন ও সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবসায়ে নামছে এসিআই
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) পিএলসি নতুন করে আবাসন ও সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসায়ে নামছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় নতুন ব্যবসা শুরুর বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে।
পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন দুই ব্যবসা শুরু করতে এসিআই প্রপার্টিজ লিমিটেড ও এসিআই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড নামের দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করবে এসিআই।
গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে এসিআই নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তটি জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এসিআই প্রপার্টিজ লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন হবে ১০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানের ৮৫ শতাংশ শেয়ার এসিআইয়ের কাছে থাকবে।
দেশে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে থাকায় আবাসন খাতের বাজার বড় হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রায় দুই হাজারের বেশি আবাসন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে উঠেছে দুই থেকে তিন ডজন প্রতিষ্ঠান।
এসিআই প্রপার্টিজের মতো এসিআই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডেরও অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা হবে। এটিরও ৮৫ শতাংশ শেয়ার এসিআইয়ের কাছে থাকবে।
স্মার্টফোন থেকে ইন্টারনেট, গাড়ি থেকে কাপড় ধোয়ার মেশিন, ফ্রিজ থেকে তালি দিয়ে বাতি নেভানোর ব্যবস্থা—সবই এখন ট্রানজিস্টর, আইসি ও মাইক্রোপ্রসেসরের দখলে। এগুলোর প্রাণভোমরা কোনো না কোনো মাইক্রোপ্রসেসর, আইসি বা ইন্টিগ্রেটেড বোর্ড। এসব যন্ত্রপাতির এক বিরাট বাজার তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টরের বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৭৭২ বিলিয়ন ডলারের। সম্ভাবনাময় এই ব্যবসায়ে ধীরগতিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। নতুন নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর খাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সোলারিক, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর, উল্কাসেমি, প্রাইম সিলিকন, টেটোন ইলেকট্রনিকস, ডিবিএল ডিজিটাল ইত্যাদি। এই খাতে সবশেষ যুক্ত হতে যাচ্ছে এসিআই।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে ইম্পিরিয়াল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (আইসিআই) বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারিং নামে একটি কোম্পানির যাত্রা শুরু করে। ১৯৮৭ সালে আনিস উদ দৌলা ইম্পিরিয়াল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (আইসিআই) বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানটিকে দুই বছরের মধ্যে লাভজনক করে তোলেন তিনি। পাঁচ বছরের মাথায় আইসিআই জানায়, তারা বিশ্বব্যাপী তাদের ছোট ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। তখন আনিস উদ দৌলা আইসিআইয়ের বাংলাদেশের ব্যবসা কিনে নেন। আইসিআইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন করে কোম্পানির নাম রাখা হলো এসিআই। তারপর চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলার নেতৃত্বে এসিআই বড় হয়েছে। বর্তমানে তাঁর দুই সন্তানের নেতৃত্বে এসিআই আরও বড় হচ্ছে।
বর্তমানে এসিআই গ্রুপের ওষুধ, কৃষি, অটোমোবাইল, ভোগ্যপণ্য, সুপার স্টোর ও এভিয়েশনের ব্যবসা আছে। অনেক পণ্যের বাজারেই তারা শীর্ষস্থানীয়। সব মিলিয়ে এসিআইয়ের কোম্পানির সংখ্যা ১৮। তারা যৌথ বিনিয়োগে আছে পাঁচটি কোম্পানিতে।