শ্রমিকদের কারখানার কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর
আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের কারখানার কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মন্ত্রী বলেন, কারখানা বাঁচলে আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মজুরি বৃদ্ধি পাবে। আপনারা কারখানায় ফিরে যান এবং কোনো প্রস্তাব থাকলে তা লিখিতভাবে মজুরি বোর্ডে দিন।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও শিল্প ধ্বংস করার কোনো প্ররোচনায় কান দেওয়া যাবে না। আন্দোলনে কোনো নিরীহ শ্রমিক গ্রেপ্তার হয়ে থাকলে তাদের মুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। তবে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর সচিবালয়ে আজ বুধবার সন্ধ্যায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকার, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক সংবাদ এ কথা বলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রমসচিব আবদুর রহমান তরফদার, পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ, নাজমা আক্তার, তাসলিমা আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রম আন্দোলনে গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিক হোসেনের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ টাকা অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মজুরি কাঠামোর অগ্রগতি বিষয়ে শ্রমমন্ত্রী জানান, গত রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে কম সময়ে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন কাঠামোর প্রস্তাব তৈরি করা হবে। তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে টঙ্গীতে ১০০ শয্যার শ্রমজীবী বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, পোশাক খাতের প্রতি সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। মজুরি বোর্ডের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁরা শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি ও স্বার্থ নিশ্চিত করবেন।