ঈদের দ্বিতীয় দিন রাজধানীতে চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে

শুক্রবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ক্রেতারা কোরবানির পশুর চামড়া কিনে ট্রাকে তুলছেনছবি: প্রথম আলো

কোরবানি ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকায় পশুর কাঁচা চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে। আজ শুক্রবার রাজধানীতে গরুর বড় ও মাঝারি আকারের চামড়ার দাম ঈদের দিনের চেয়ে অন্তত ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। তবে ছাগল ও গরুর ছোট চামড়ার দাম বাড়েনি।

চামড়া বিক্রেতারা জানিয়েছেন, অনেকে কোরবানি ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও পশু জবাই দিয়ে থাকেন। সংখ্যায় তা প্রথম দিনের চেয়ে বেশ কম হয়। তবে পরের দুই দিন জবাই করা পশুর আকার তুলনামূলক বড় হয়। ফলে চামড়ার আকারও বড় ও ভালো মানের হয়। এ কারণে চামড়ার দাম কিছুটা বেশি থাকে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, লালবাগ বালুর মাঠ ও পোস্তা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাঝারি আকারের প্রতিটি চামড়া বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। চামড়ার আকার বড় হলে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম উঠতে দেখা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার; অর্থাৎ কোরবানি ঈদের দিন রাজধানীতে মাঝারি আকারের চামড়া ৫০০-৬৫০ টাকা এবং বড় আকারের কাঁচা চামড়া ৭০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে আজ শুক্রবার ঢাকায় প্রতিটি চামড়া ঈদের দিনের চেয়ে ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

ছোট আকারের গরুর চামড়ার দাম বাড়েনি। ছোট আকারের কাঁচা চামড়া কেনাবেচা হয়েছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। ঈদের দিনেও এ দরেই ছোট আকারের কাঁচা চামড়া কেনাবেচা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার কোরবানির ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পশুর চামড়ার পাইকারি ও মৌসুমি ক্রেতা—উভয়ের সংখ্যাই কম ছিল। বেলা ২টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় দেখা যায়, সেখানে আড়তদার ও ট্যানারির মালিকদের পক্ষে কাঁচা চামড়া সংগ্রহকারী তিনজন ক্রেতা চামড়া সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে কিছুক্ষণ পরপর রিকশা-ভ্যানে করে মৌসুমি বিক্রেতা বা মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা ৫-১০ পিস করে চামড়া নিয়ে আসছেন।

বৃহস্পতিবার; অর্থাৎ কোরবানি ঈদের দিনে এই এলাকায় ৮-১০ জন আড়তদার ও ট্যানারিমালিক সরাসরি কাঁচা চামড়া কিনেছেন। এ ছাড়া আরও ১০-১২ জন মৌসুমি ব্যবসায়ী ছিলেন। সে তুলনায় আজ শুক্রবার ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেশ কম ছিল।

আজ ঈদের দ্বিতীয় দিন রাজধানীর পোস্তায় আড়তের কর্মীরা কাঁচা চামড়ায় লবণ দিচ্ছেন
ছবি: প্রথম আলো।

দরদাম যেমন

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে আজ বিকেলে তিনটি মাঝারি ও একটি ছোট আকারের কাঁচা চামড়া নিয়ে লালবাগ বালুর মাঠের পাশে আসেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রতিনিধি শামসুল আলম। তিনি প্রতিটি চামড়া ৭০০ টাকা দরে মোট ২ হাজার ৮০০ টাকা দাম চান। কিন্তু চামড়ার আড়তদার তাঁকে দুই হাজার টাকা দিতে চান। কিছুটা দর-কষাকষি শেষে তিনটি মাঝারি চামড়া ২ হাজার ১০০ টাকা ও একটি ছোট চামড়া ২০০ টাকায় বিক্রি করেন শামসুল আলম। তাতে মাঝারি আকারের প্রতিটির দাম পড়ে ৭০০ টাকা; অর্থাৎ শামসুল আলম মোট ২ হাজার ৩০০ টাকায় চামড়াগুলো বিক্রি করেন। বৃহস্পতিবার মাঝারি আকারের চামড়া ৬০০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

লালবাগ বালুর মাঠ থেকে পোস্তার দিকে এগিয়ে যেতেই চামড়ার আড়তদারদের বাড়তি ব্যস্ততা নজর কাড়ল। ঈদের দিন দুপুরের আগপর্যন্ত পোস্তার আড়তগুলোর কর্মীরা অনেকটা ঢিলেঢালা সময় কাটিয়েছেন। দুপুরের পর থেকে তাঁদের ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। আজও সকাল থেকে কাঁচা চামড়া ট্রাক-ভ্যান থেকে নামানো, সেগুলো পর্যবেক্ষণ ও শেষমেশ লবণ লাগানোর কাজে তাঁদের ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

পোস্তা এলাকায়ও ঈদের দিনের চেয়ে বাড়তি দামে চামড়া বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে প্রায় ৭০টি কাঁচা চামড়া নিয়ে পোস্তায় আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. বিপ্লব। তিনি দু-তিনটি আড়ত ঘুরে শেষে খলিল লেদার সাপ্লাই আড়তে দুই ভাগে চামড়াগুলো বিক্রি করেন। মাঝারি আকারের চামড়া ৭৫০ টাকা দরে এবং ছোট আকারের চামড়া ৩৫০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

জানতে চাইলে পোস্তার খলিল লেদার সাপ্লাই আড়তের মালিকানা অংশীদার হাজি আমজাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ বেশির ভাগ চামড়া ৭০০-৮০০ টাকার মধ্যে কিনেছি। চামড়ার আকার বড় হলে ৯০০ টাকার ওপরেও দাম দিয়েছি।’