রাজধানীতে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী ১৪তম গ্যাপেক্সপো
আগামী বুধবার শুরু হচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্পের অ্যাকসেসরিজ (আনুষঙ্গিক উপকরণ) ও প্যাকেজিং পণ্যের ১৪তম প্রদর্শনী গ্যাপেক্সপো। প্রদর্শনীতে আরও থাকছে অ্যাকসেসরিজ তৈরির কাঁচামাল, ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ, অ্যাপারেলস, সুতা, কাপড়, ট্রিমসসহ (বোতাম, জিপার ও লেইসের মতো অলংকরণ) বিভিন্ন পণ্য। চার দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী আয়োজিত হবে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি)।
আজ রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের লা ভিঞ্চি হোটেলের বলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, সাবেক সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী, এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনসের পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়াসহ বিজিএপিএমইএর অন্যান্য নেতারা। প্রদর্শনীর আয়োজন করছে বিজিএপিএমই ও এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রদর্শনীতে দেড় হাজার স্টলে ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে। ভারত, ভিয়েতনাম, জাপান, চীনসহ ১৮টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে এই প্রদর্শনীতে। ৪০ হাজার ব্যবসায়ী দর্শনার্থীসহ ৮০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে। প্রদর্শনীটি বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী বুধবার বেলা ১১টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনে বিজিএপিএমইএ সদস্যদের গালা নাইট ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রদর্শনীর তৃতীয় দিন পেপার প্যাকেজিং পণ্যের সম্ভাবনা ও সমস্যা শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই খাতে বর্তমানে ৬২টির বেশি ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে। খাতটিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এই খাতে সাত লাখ কর্মসংস্থান রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার এসেছে প্রত্যক্ষ রপ্তানি থেকে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে এই খাতের সম্ভাবনা, বাধা ও বিকাশ নিয়ে প্রশ্ন করেন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় প্রশ্নের উত্তরে বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, বিশ্ববাজারে প্যাকেজিংপণ্যের বাজার প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের। সেখানে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র ৫০ কোটি ডলার। এই খাতে বড় বাধা নীতিগত বৈষম্য ও প্রণোদনার অভাব। চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো এই খাতে ৪ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি প্রণোদনা দেয়।
মো. শাহরিয়ার আরও বলেন, বর্তমানে ৩০০ জিএসএমের নিচের কাগজ বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা যায় না। ফলে এসব কাঁচামাল আমদানিতে ৫৮ থেকে ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। পাশাপাশি এই খাতে রয়েছে ব্যাংকিং–সহায়তার অভাব। তৈরি পোশাকশিল্প খাতের মতো নীতিগত সহায়তা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে এই খাত বড় অবস্থান তৈরি করতে পারবে।